
বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না মালয়েশিয়া প্রবাস ফেরত চঞ্চলের (২৩)। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হেরে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। জানা যায় গেলো ৬ ডিসেম্বর ছিল তার গায়ে হলুদ। ৭ ডিসেম্বর বিয়ে। এই শুভলগ্ন আসার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিয়ের বাজার করে আইসড়া বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বাজারের পশ্চিম পাশে বেটারিচালিত অটোরিকশাকে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সরসরি মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সিএনজি'র সামনের গ্লাসের সঙ্গে মুখ থুবড়ে পড়ে। এতে চঞ্চলের মুখ ও মাথার সমনের অংশ থেতলে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বন্ধু ও স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে।
অবস্থার অবনতি দেখে স্বজনরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভার এনাম মেডিকেল হসপিটালে নিয়ে যায়। সেখানে সাত ডিসেম্বর অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে নিবীড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। দীর্ঘ চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হেরে আজ বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে চলে যান না ফেরার দেশে।
গত ৬ ডিসেম্বর সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার আইসড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার শিকার জামিল হাসান চঞ্চল (২৩) টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার এক নম্বর ফুলকি ইউনিয়নের আইসড়া পশ্চিমপাড়া (খালের পাড়) এলাকার ইউসুফ আলীর একমাত্র ছেলে।
জানা যায়, গেলো দেড় মাস আগে চঞ্চল মালয়েশিয়া থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসে। মাত্র কয়েক দিন আগেই পার্শ্ববর্তী কালিহাতি উপজেলার গোলড়া গ্রামের মজনু মিয়ার প্রথম কন্যার সঙ্গে বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। ৭ ডিসেম্বর বিবাহ সম্পন্নের কথা ছিল। তার আগেই সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেল পরপারে।
তার এ অনাকাঙ্খিত ও অকাল মৃত্যুতে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার বন্ধু মহলসহ এলাকায় বিরাজ করছে শোকের ছায়া।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার চঞ্চলের মরদেহ দেখতে আসার সময় আইসড়া বাইপাস রাস্তায় বেটারিচালিত অটোরিকশা উল্টে তার চাচাত বোন আহত হন। তাকেও গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে বিয়ের প্রাক্কালে বরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর শোকে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন কনে।
জেবি




