
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোর প্রতিবাদ করায় বিচারকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে একাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) ফোরাম।
বৃহস্পতিবার ফোরামের সভাপতি শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী জজ ছগির আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী জজ আসমা জাহান সাক্ষরিত এক প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয় চট্টগ্রামের যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের উপর কাপুরুষোচিত হামলা সমগ্র বিচার বিভাগের উপরই আক্রমণের সামিল। এই আক্রমণ সকল বিচারকের মনে বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সকল বিচারকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়াসহ বিচারকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের উপর হামলা হয়। এ ঘটনায় আলী আকবর এবং হাসান আলী জিসান নামের দুজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।
এদের মধ্যে আলী আকবর যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দিন হত্যা মামলার আসামি। তার বাবা হাজী ইকবালও একই মামলার আসামি।
বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইকবালকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য ১০ বছর আগে বহিষ্কার করা হয়। তবে এলাকায় তিনি এখনও আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দেন।
পতেঙ্গা থানার এসআই সেলিম মিয়া বুধবার বিকেলের ঘটনার বিষয়ে বলেন, আটক দুইজন আউটার রিং রোডে উল্টো পথে মটরসাইকেল চালিয়ে আসেন। এসময় জজ সাহেব ওই পথ দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। মটরসাইকেল তার গাড়ির সামনে পড়লে তিনি উল্টো পথে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিষয়ে জানতে চান। এসময় তারা হামলা চালায়। সেখানে উপস্থিত স্থানীয়রা হামলাকারীদের আটকে ফেলে।
ওই গাড়িতে থাকা চট্টগ্রাম মহানগরের পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ জহির উদ্দিন হামলায় হাতে ব্যথা পেয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। পরে উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আটক দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।
২০১৮ সালের ২৬ মার্চ দুপুরে হালিশহর মেহের আফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের পুর্নমিলনী নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বৈঠক চলাকালে খুন হন যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দিন। ওই হত্যা মামলায় হাজী ইকবাল তার ছেলে আলী আকবর আসামি ছিলেন। তখন আলী আকবর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পান।
এমকে




