
শেরপুরের ঝিনাইগাতীর হাতীবান্ধা ইউনিয়নের ভুয়া কাজী বাছেদ মিয়া নিজ ইউনিয়নসহ অন্য সাতটি ইউনিয়নে অবশেষে নিজেকে ভুয়া কাজী হিসেবে আর কখনও বাল্যবিয়ে পড়াবেন না বলে জনসম্মুখে মাইকিং করে প্রচার করে চলেছেন। প্রশাসনিক শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। এবং ভুয়া কাজী হিসাবে পরিচয় দিয়ে বাল্যবিবাহ পড়ানোর জন্য ক্ষমাও চাচ্ছেন। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।গত তিন দিন ধরে বিভিন্ন ইউনিয়নে এ মাইকিং চলছে। চলবে আরও চার দিন।
২০১৮ সালে বাল্যবিয়ে পড়াতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হাতে আটক হয়ে এক মাসের সাজা ভোগ করেছিলেন হাতীবান্ধা ইউনিয়নের ভুয়া কাজী বাছেদ মিয়া। জেল থেকে বের হয়ে আবারও শুরু করেন বাল্যবিয়েসহ অন্যান্য বিয়ের পড়ানোর হাজ। প্রায় দুই মাস আগে ভুয়া কাজী বাছেদ মিয়া ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের পাগলারমুখ গ্রামে বাল্য বিয়ে পড়াচ্ছিলেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ এ খবর পেয়েই ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। ঘটনা আচ করতে পেয়ে ভুয়া কাজী বাছেদ মিয়া পালিয়ে যান বিয়ে বাড়ি থেকে। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে খুঁজে না পেয়ে সারা উপজেলায় মাইকিং করেন এবং বাছেদ মিয়াকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে স্ব-শরীরে ভলিউমসহ যোগাযোগ করার জন্য জানানো হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহের অপরাধে অভিযুক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
কিন্তু বাছেদ মিয়া হাজির না হয়ে পালিয়ে যান। গেলো দুই মাস পালিয়ে থেকে অবশেষে বাছেদ মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে হাজির হন এবং শাস্তি থেকে ক্ষমা পেতে অনুরোধ জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে শাস্তির বদলে ভবিষ্যতে বিয়ের কাবিন করবে না এবং বাল্য বিয়ে পড়াবেন না এ মর্মে নিজেকেই মাইকিং করে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে প্রচার করার নির্দেশ দেন। ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে উপজেলার সাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নিকট অঙ্গীকারনামা প্রদান করতে বলেন। এ নির্দেশ মোতাবেক বাছেদ মিয়া ইতোমধ্যে মাইকে প্রচার কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
শর্ত মোতাবেক ভুয়া কাজী বাছেদ মিয়া ইতোমধ্যে অঙ্গীকার নামা প্রদান করে ভবিষ্যতে বিয়ে কাবিন ও বাল্যবিয়ে পড়াবে না বলে জনগণেরর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজেই মাইকিং করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এতে খুশি হয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শাস্তির পরিবর্তে তার নিজের দোষ নিজে জনগনের মধ্যে প্রচার করে একদিকে নিজে ভালো হবে, আর অন্যরাও এতে সতর্ক হবে। আর যেন কেউ এ কাজ করতে সাহস না পায়।
এলাকাবাসী মনে করেছেন এ ধরনের প্রচারণায় ভুয়া কাজীদের দৌরাত্ম হ্রাস ও বাল্যবিয়ে কমে আসবে।
জেবি




