
হাতিয়ার বয়ার চরের চতলা ঘাটে নদীর দিকে তাকিয়ে খুবই বিমর্ষ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায় এক শিশুকে। মাথায় ও পায়ে কাটা চিহ্ন। চোখ যতটুকু যায় তাতে খুব চেষ্টা করছে নদীতে কিছু ভেসে যাচ্ছে কিনা তা দেখতে। কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, তার নাম নাহিম বয়স ৬ বছর। সে ছোট বোন লামিয়ার খোঁজে এসেছে। বরযাত্রী ট্রলার দুর্ঘটনায় ছোট বোন লামিয়া (২) নিখোঁজ হয়। তার বাড়ি ভোলার মনপুরা উপজেলার দাসের হাট গ্রামে। সে বরের ভাগিনা।
.jpg)
মাথায় ও পায়ে কাটা দাগ কেন জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারে সেও ছিল। ট্রলারটি যখন সম্পূর্ণ ভাবে ডুবে যাচ্ছে তখন সে পাশে থাকা জানালার কাঁচ ভেঙ্গে বের হয়। এতে তার শরীরের অনেকাংশে কেটে যায়। মাথায় ও হাঁটুতে এখনো কাটার চিহ্ন রয়েছে। পরে পার্শ্ববর্তী ট্রলার এসে তাদেরকে উদ্ধার করে। উপরে উঠে সে জানতে পারে পরিবারের অন্য সদস্যরা বেচে আছে শুধু ছোট বোন লামিয়া নেই। সে আরও জানায় ট্রলারটি হাতিয়ার চানন্দী ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার ২০-২৫ মিনিট পরে প্রবল স্রোতে ডুবে যায়। এসময় সে তার মা জরিনা ও ছোট বোন লামিয়াসহ ট্রলারের কেবিনের মধ্যে ছিল।

নাহিমের মত একই গল্প হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের থানার হাট এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদেরের। সেদিনের দুর্ঘটনায় এখনো নিখোঁজ তার পরিবারের মা জাকিয়া খাতুন, ছেলে হাসান (৫) মেয়ে নুরুন নাহার (২) ও ভাগ্নি রুপা আক্তার (৬)সহ ৪জন। নিখোঁজদের খোঁজে সবার মত সেও এসেছে বয়ারচরের চতলা ঘাটে। কোষ্টগার্ডের ট্রলার দেখে দৌড়ে এসে জিজ্ঞাসা করছে কোন মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে কিনা। আলাপ কালে সে জানায় সে বরের বোন জামাই। সেদিনের ঘটনায় তার পরিবারের ৪জন নিখোঁজ রয়েছে। শুধু কোষ্টগার্ড ও নৌ- পুলিশের উপর নির্ভর না করে তারাও নিজস্বভাবে ট্রলার নিয়ে নদীতে খোঁজাখুঁজি করছে।
এদিকে নিখোঁজ ৮জনের খোজে তৃতীয়দিন বৃহস্পতিবারও কোষ্টগার্ড তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সকাল থেকে তারা হাতিয়ার চানন্দী ঘাট, চতলা ঘাট ও টাংকির ঘাটের পাশে নদীতে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক অনেক স্থানে ডুবুরি দিয়ে নদীর তলদেশে তল্লাশি করছে তারা।

কোষ্টগার্ডের হাতিয়া স্টেশন কমান্ডার লে: তাহসিন রহমান বলেন, মেঘনা নদীতে স্রোতে অনেক বেশী থাকায় উদ্ধার অভিযান অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। তারপরেও আমাদের টিম নদীতে অবস্থান করছে। আমরা দিনরাত ২৪ ঘন্টা অভিযান অব্যাহত রাখবো।
উল্লেখ্য, ১৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকালে কনেসহ বরযাত্রী নিয়ে ট্রলারটি হাতিয়ার চানন্দী ঘাট থেকে বরের বাড়ী ঢালচরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রলারটি ঢালচরের কাছাকাছি এলে প্রবল স্রোতে নদীতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এই ঘটনায় কনে তাছলিমাসহ ৭জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে ৭শিশু ও এক নারীসহ ৮জন। এসময় ট্রলারের মধ্যে নারী পুরুষ শিশুসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোক ছিল বলে জানাযায়।
কনের পিতা ইব্রাহীম সওদাগর জানায় তার মেয়ে তাছলিমার সাথে হাতিয়ার ঢালচরের বেলাল মেস্তুরীর ছেলে ফরিদ উদ্দিনের বিবাহ হয়। মঙ্গলবার তাছলিমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরের বাড়িতে নেওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
জিএ




