
যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পচাসারটিয়া মেহের আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরহাদ আলীকে (৪৫) অবশেষে সাময়িক অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুজ্জামান।
এদিকে ওই শিক্ষকের কু-প্রস্তাবের একাধিক অডিও ক্লিপস ভাইরাল হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে ওই শিক্ষকের বিচার ও শাস্তির দাবিতে ফুসে উঠে যুবসমাজসহ এলাকাবাসী।
গেলো সোমবার তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বিষয়টি আরটিভি অনলাইনে প্রকাশ হলে টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তা ব্যক্তিদের।
পরে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সকল সদস্যের উপস্থিতিতে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এসময় ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ঘঠন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী ওই নারীকে চাপের মুখে অর্থের বিনিময়ে রাজি করিয়ে প্রধান শিক্ষক তাকে সঙ্গে নিয়েই নাগরপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করতে গেলে সেখানে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন দু’জনেই। তারা সেখানে বলতে চেয়েছেন, বিষয়টি দ’জনেরই ভুল ছিল বলে কথার মারপ্যাচে চালাতে চেষ্টা করেন। পরে তরিঘরি করে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন তারা।
প্রসঙ্গত, উপজেলার ভারড়া ইউনিয়নের ভারড়া গ্রামের হত দরিদ্র কাঠমিস্ত্রী আ.মোতালেবের স্ত্রীকে (৩৭) চাকরি দেয়ার সূত্র ধরে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন পচাসারটিয়া মেহের আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.ফরহাদ আলী। ওই নারীর দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে মোবাইল ফোনে ও সরাসরি প্রতিনিয়ত শারীরিক মিলনের জন্য প্রস্তাব দিতে শুরু করে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী গেলো ৯ নভেম্বর টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাগরপুর আমলী আদালতে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি বিজ্ঞ আদালত সুষ্ঠু তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল ডি.বি দক্ষিণকে নির্দেশ দেন। তারই প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
জেবি




