
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তাসলিমা বেগম কাজল নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এর আগে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাসলিমা ফাঁসিতে ঝুলে থাকা অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। মৃত তাসলিমা বেগম তাহানা (৩) ও আল আমিন (৯) নামের দু’সন্তানের জননী। তাসলিমার মৃতদেহ উদ্ধারের সময় তার স্বামী মামুন মিয়াকে পুলিশ আটক করে।
এ ঘটনায় স্বামী মামুন মিয়াসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ করেছেন গৃহবধুর মা নেহার বেগম। রোববার (২৭ ডিসেম্বর)সকালে উপজেলার ১৫নং রূপসা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বদিউজ্জামালপুর গ্রামে মামুন মিয়ার বসত বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।
তাসলিমার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আলোনিয়া গ্রামের শাহজাহান মৃধার কন্যা তাসলিমা(২৭)। একই উপজেলার বদিউজ্জামালপুর গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে মামুন মিয়া (৩৪) এর সাথে ১৩ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে তাসলিমা বেগমকে বিয়ে দেন। বিয়েতে মেয়েকে স্বর্ণালংকার ছাড়াও, প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার আসবাবপত্র দিয়েছেন। বিয়েরপর জামাতা প্রবাসে যাওয়ার জন্য একলক্ষ টাকা নেন, এ একলক্ষ টাকা না দিয়ে পুণরায় যৌতুক দাবী করে। যৌতুকের টাকা না পেয়ে শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে মেয়ের সুখের জন্য ধারদেনা করে জামাইকে আবারো ১লক্ষ টাকা দেন বলে দাবী করেন তাসলিমার মা।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বদিউজ্জামালপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মামুন মিয়া বিভিন্ন অজুহাতে তার স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে বিভিন্ন সময়। গ্রামবাসী বলেন, তাসলিমাকে খুন করা হলে, তদন্ত পূর্বক উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন। যেন আর কোন অবুঝ সন্তান এভাবে এতিম না হয়।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন জানিয়েছেন, তাসলিমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুরে প্রেরণ করা হয়েছে। তাসলিমা বেগমের স্বামী মামুন মিয়াকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।
এফএ




