
রাতের আঁধারে বনের হিংস্র শিয়াল আসছে লোকালয়ে। নাম ধরে ডাকলে পাশে এসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। ভালোবাসা দিয়ে সব জয় করা যায়, তারই প্রমাণ কুষ্টিয়ার মিলন। শুধু মায়া আর ভালোবাসা দিয়ে হিংস্র পশুকে পোষ মানিয়ে এলাকায় হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন তিনি।
ভালোবাসা দিয়ে যে বনের প্রাণিকেও বশে আনা সম্ভব, কুষ্টিয়ার পশুপ্রেমী শাহাবুদ্দিন মিলন তারই প্রমাণ। বনের হিংস্র শিয়ালকেই পোষ মানিয়েছেন ভালোবাসা দিয়ে। নাম ধরে ডাকলেই হাজির হয়ে যাচ্ছে বন্য শিয়াল।
২০ বছর আগের কথা। একটা বাচ্চা শিয়াল অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে এসে পশুপ্রেমী মিলন লেজ কেটে দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। এভাবে ওই শিয়ালের সাথে প্রেম হয় মিলনের। মিলন তার নাম দেন রঘু। নাম ধরে ডাকলেই রঘু মিলনের সামনে হাজির হয়।
পশুপ্রেমী শাহাবুদ্দিন মিলন বলেন, দেখলাম একটা বাচ্চা শিয়াল অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে। তার লেজে দেখলাম ঘা। এটি কোনোভাবে সারানো যাবে না। শিয়ালটি কান্না করছিল। তখন আমি লেজটি কেটে দিলাম। ধীরে ধীরে শিয়ালটি সুস্থ হয়ে ওঠে। এরপর থেকে আমার কাছে আসতে থাকে। নাম ধরে ডাকলেই চলে আসে। যে কোনো প্রাণি যত বড় হিংস্র হোক না কেন, তাকে ভালোবেসে আপন করে নেওয়া যায়।
স্থানীয়রা বলেন, আমার কাছে অবাক লেগেছে হিংস্র প্রাণিও মানুষের ভালোবাসা পেলে পরিবর্তন হয়। দেখে আসলে অদ্ভুত লাগছে। উনি যখন শিয়ালকে নাম ধরে ডাকে তখনই চলে আসে। অন্য কেউ ডাকলে আসে না।
প্রতি রাতেই আলাদা আলাদা গ্রুপে শিয়ালরা খোদ কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া পলান বকস সড়কে পশুপ্রেমী শাহাবুদ্দিন মিলনের বাড়ির সামনে হাজির হয়। শিয়ালের সাথে মানুষের প্রেম রীতিমতো অবাক করেছে স্থানীয়দের। মানুষ ও পশুর এ বন্ধুত্ব দেখার জন্য প্রায় দর্শনার্থীরা ভিড় করেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে ভালোবাসায় শিয়ালকে বাঁচিয়ে রাখা গেলে প্রকৃতি ও পরিবেশ বাঁচবে।
জিএম/পি




