
নরসিংদীর রায়পুরায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছে মা সুরাইয়া খাতুন। জন্ম থেকেই নিজের চোখের আলো হারিয়ে স্বামীর সংসারে গেলেও নিয়তির কড়াল পরিণতি পিছু ছাড়েনি তার। সংসার জীবনে পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনটিই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। ১২ বছর আগে স্বামী মহসিন মিয়াকে হারিয়ে সন্তানদের মানুষ করতে অনেক ঘাত- প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়েছে সুরাইয়া খাতুনকে।
কিন্তু এখন বয়সের ভারে পড়ে নিজের অক্ষমতায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে পড়েছে বিপাকে। রায়পুরার উপজেলার বাখরনগর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে ছোট্ট একটি জড়াজীর্ণ কুড়ে ঘরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন স্বামী হারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সুরাইয়া খাতুন।
প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য সরকার থেকে বছরে ভাতা মিলে মাত্র ২৭ হাজার টাকা। তাতে চলে না সংসার। অভাব অনটনের সংসার চালিয়ে সন্তানদের মানুষ করতে সুরাইয়া খাতুনকে কখনও অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে হয়েছে। কখনও বা বাড়ির পাশের ধানের খলা ও বয়লারে কাজ করতে হয়েছে।
এতো ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলে ফারুক মিয়াকে শিক্ষার আলো দিতে পড়িয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ছেলেকে অনার্স, মাস্টার্স পাশ করিয়েও ছেলের একটি চাকরি না হওয়ায় এখনও চার জনের সংসারের ঘানি টেনে যাচ্ছেন মা সুরাইয়া খাতুন। এ অবস্থায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য একটি চাকরি চেয়েছেন মা সুরাইয়া খাতুন।
সুরাইয়া খাতুন বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারের পুরো দায়িত্ব পড়ে আমার কাদে। নিজে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়ে আরও তিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্ট করে দিন পার করতে হয়েছে। অন্যের বাড়ি কাজ করে, কখনও বাড়ির পাশে বয়লারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে সন্তানদের খাবার জোগাড় করেছি। এতো কষ্ট সহ্য করেও একমাত্র ছেলেটিকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। একটি মাত্র আশায় ছেলে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ভালো একটি চাকরি করবে। আমাদের সব কষ্ট দূর করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলেকে কেউ চাকরিও দিচ্ছে না। ছেলে চাকরি না পাওয়ায় অর্থাভাবে মেয়েদেরও বিয়ে দিতে পারছি না। তাই কেউ যদি ছেলেটিকে একটি চাকরি ব্যবস্থা করে দিতো তবে মৃত্যুর আগে অন্তত শান্তিতে মরতে পারতাম।
এদিকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই পরিবারটিকে সহযোগিতা করতে সরকারি ঋণ প্রদানের কথা জানিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
রায়পুরা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান আরটিভি নিউজকে জানান, সরকারি ভাতার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিবন্ধী সুরাইয়া খাতুনের পরিবারকে ঋণ প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়ে ঋণের টাকায় তেমন কোনও স্বচ্ছলতা আনতে পারবে না বলে তারা সেই ঋণটি গ্রহণ করেনি।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সুরাইয়া বেগমের দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলে ফারুক মিয়ার চাকরির ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
জেবি




