
পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ সম্প্রসারণ কাজ শুরু হচ্ছে শিগগিরই। সমীক্ষা শেষ হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশন থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ হবে ৪৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে নতুন করে পাঁচটি নতুন রেলস্টেশন তৈরি হবে। রেলপথমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন আজ বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রেললাইন সম্প্রসারণ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে আটটি পয়েন্টে রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল ইতোমধ্যে পাঁচটি চালু করা হয়েছে। অচিরেই বাকি তিনটি চালু করা হবে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর। রেললাইন বাংলাবান্ধা পর্যন্ত সম্প্রসারণ হলে জেলার অর্থনীতি ও ব্যবসা বাণিজ্যের দুয়ার খুলে যাবে। এজন্যই রেললাইনের পাশেই স্থাপন হবে আধুনিক শপিং মল।
এ সময় জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী এবং ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দসহ পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা রেললাইন সম্প্রসারণ কাজের প্রকল্প পরিচালক আবু জাফর মিঞা বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও নতুন রেললাইন নির্মাণ এলাকায় সমীক্ষা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সমীক্ষা কার্যক্রম এবং প্রজেক্টরের মাধ্যমে স্টক হোল্ডারদের দেখানো হয়।
তিন ধরনের নকশা তৈরি কারা হয় সমীক্ষায়। প্রকল্প পরিচালক জানায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত নতৃন রেললাইন নির্মাণের সমীক্ষা ও নকশা সম্পন্ন হয়েছে। ৪৭ দশমিক চার কিলোমিটার নতৃন রেললাইন, পাঁচটি স্টেশন, চারটি ব্রিজ, ১৪টি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এজন্য ৮৬০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। যার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন রেললাইন ও রেলস্টেশন নির্মাণে জমি অধিকরণ ব্যয় ছাড়া প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
মতবিনিময় সভায় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান প্রস্তাব করেন জগদল থেকে ভজনপুর সাত কিলোমিটারের একটি রেললাইন। সভায় মন্ত্রী তার প্রস্তাবটিকে সুবিবেচনা করার নির্দেশ দেন উপস্থিত প্রকল্প পরিচালক সমীক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের।
এ সময় পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পঞ্চগড়ের মানুষের দাবি ছিলো একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু। বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ হলে পঞ্চগড়ের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে যাবে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট জানান, আমাদের রেলপথমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাবান্ধা পর্যন্ত যাচ্ছে রেললাইন। এটি যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে আমাদের এই এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নত হয়ে যাবে।
পরে রেলপথ মন্ত্রী সম্প্রসারিত রেললাইন এলাকা পরিদর্শন করেন।
জেবি




