
সড়কেই পড়ে ছিল লাশটি। ভয়ে কেউ কাছে ঘেঁষে না। যে পাশে থাকার কথা একমাত্র সেই মেয়েও প্রায় তিনশ মাইল দূরে দ্বীপজেলা ভোলায়! লাশটি এখান থেকে নেওয়ার মত কেউ নেই। আবার বাবার লাশের জন্য কান্নাকাটি করলেও নেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতাও নেই মেয়ের। এমন সময়ই আগমন একদল মানবিক পুলিশের। তারা নিজ উদ্যোগে সেই লাশ উদ্ধার করেন। জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা করে লাশ পাঠিয়ে দেন ভোলায়। মানবিক এই কাজ করে প্রশংসায় ভাসছে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানা।
কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, সড়কে পড়ে থাকা একটা লাশ আমরা উদ্ধার করি। তার এখানে কোন স্বজন নেই। ভোলায় মেয়ে থাকলেও লাশ নেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। আমরাই তাই তাদের স্বজন হয়েছি। নিজ উদ্যোগে, নিজস্ব খরচে সেই লাশ তার মেয়ের কাছে পাঠিয়েছি।
কোতোয়ালী থানার উপ পরিদর্শক ইকবাল ভুঁইয়া জানান, লোকটির নাম আব্দুর রহমান (৮৫)। বিভিন্ন বাড়িতে দারোয়ানি করতেন। কিন্তু করোনায় তার চাকরি চলে যায়। বৃদ্ধ বলে কেউ ঘরের পাশেও রাখতে চায়নি। কিন্তু দীর্ঘ দিনের মায়ার কাজির দেউরী ছাড়েননি। একমাত্র মেয়ে থাকে পৈতৃক ভিটা সুদূর ভোলায়। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। এরপর থেকেই সড়কে পড়েছিলেন। আমরা গিয়ে উদ্ধার করে এম্বুল্যান্স করে লাশ ভোলা পাঠাই। সেখানেই প্রিয় বাবার মুখ শেষবারের মতো দেখার জন্য বসে আছে তার একমাত্র মেয়ে।
জিএ




