
টিসিবির ন্যায্যমূল্যের ট্রাকে পণ্য কিনতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তবে অনেকেই ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পাননি কাঙ্ক্ষিত পণ্য। হতাশ হয়ে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে বহু মানুষকে। কোনো কোনো স্থানে দেখা পেয়েও পণ্য হাতে পাওয়া নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। এদিকে টিসিবির পণ্য কিনতে এসে মানুষ মানছেন না সামাজিক দূরত্ব। তীব্র গাদাগাদির কারণে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও।
বুধবার(৭ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে টিসিবির পণ্য কিনতে মানুষকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
লকডাউনের কারণে কাজ হারিয়ে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ। আগে বিভিন্ন দোকান থেকে নিত্যপণ্য কিনলেও আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন ছুটছেন টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্যের ট্রাকে। দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত পণ্য পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
খামার বাড়ি মোড়ে সকাল ৮ টা থেকে টিসিবির ট্রাক আসলে পণ্য কিনবেন সেজন্য অপেক্ষা করছিলেন দসিম মোল্লা নামের ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধ। বেলা পৌনে ১২ টা বাজলেও ট্রাক না আসায় শুকনো মুখেই রাস্তার পাশেই বসে পড়েন। জানেন না কখন আসবে কাঙ্ক্ষিত ট্রাক। তিনি বলেন, আমি বুড়া মানুষ সেই সকালে এখানে এসে অপেক্ষা করছি। একটু কম দামে পণ্য কিনতে পারবো সেজন্য। আমরা কোনো মাধ্যমে জানতেও পারছি না আজ ট্রাক আসবে কি না।
শুধু দসিম মোল্লা নয় তার মতো আরো প্রায় তিনশ জন অপেক্ষা করেন কাঙ্ক্ষিত ট্রাকের।
অপেক্ষারত লিটন নামের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের নাইটগার্ড বলেন, এই ভোগান্তির শেষ কোথায় আমরা জানি না। করোনার মধ্যে অফিস থেকে কোনো মাসে বেতন পাই কোনো মাসে পাই না। অনেক দাম দিয়ে আমাদের পণ্য কেনা সম্ভব না তাই কম দামে টিসিবির পণ্য কিনতে আসছি। কিন্তু ভাগ্য খারাপ হলে যা হয়। আজ ট্রাকই আসলো না। চলে যাওয়া ছাড়া আর উপায় নাই। আরও অনেকেই ছিল অপেক্ষা করতে করতে চলে গেছে।
এদিকে গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় এসব মানুষ রয়েছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। স্থান সংকটের কারণে দূরত্ব মানা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান অনেকেই।
আসমা নামের এক পোশাক শ্রমিক গুলশান লিংক রোডে টিসিবির ট্রাকের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত পণ্যে অপেক্ষা করছিলেন হতাশ কণ্ঠে বলেন, করোনার ভয় তো আছে কিন্তু পেটের খুধা আরো ভয়ের। খুধায় মরার চেয়ে করোনায় মরা ভালো। আমরা বাধ্য হয়েই এভাবে লাইনে দাঁড়াইছি। বাড্ডাও দাঁড়াইছি কিন্তু পণ্য পাইনি। তারা বলে শেষ। সেই জন্য আবার এখানে এসে দাঁড়াইছি।
এ বিষয়ে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে এক দিন করে বিরতি দিয়ে পণ্য সরবরাহ করায়, মানুষ না জেনে অপেক্ষা করছেন জানান টিসিবি কর্তৃপক্ষ। কিছু কিছু স্থানে মানুষ বেশি হয়। চাহিদা অনুযায়ী আমরা দরকার হয়ে দুই বেলা পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করবো।
আর মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে পুলিশের সহায়তাও চেয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে ডিএমপিতে চিঠিও দিয়েছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, ৫ জুলাই থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে টিসিবি। ঈদের ছুটি বাদ দিয়ে ২৯ জুলাই পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
এসকে/এম




