
বলছি তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের ভাদ্রুবাড়ি এলাকার দিনমজুর গোপাল চন্দ্রের কথা, অন্যের জমিতে কাজ করে কোনো রকম দিন পার করা চার সন্তানের জনক তিনি। ভিটে-মাটি না থাকায় অন্যের আশ্রয়ে পরিবার নিয়ে সে বসবাস করতো।
মাগুরার সামাদ শেখেরও একই নিয়তি, স্ত্রী-পরিবার নিয়ে সে অন্যের জমিতে ঘর করে বসবাস করতো, কাটাতো মানবতর জীবন। একই উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের রনচন্ডী এলাকার আব্দুল আলিম, নিজের জমি না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে মানুষের জমিতে ভাঙা ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেছেন। অনেক কষ্ট করে স্বামী-স্ত্রী মিলে জমি কিনতে পারলেও ঘর করার সামর্থ্য ছিল না।

দেশজুড়ে এমন হাজারো গৃহহীন মানুষ রয়েছ যাদের কেউ থাকতো অন্যের জমিতে বাড়ি করে, কেউ থাকতো অন্যের বাড়ি ভাড়া, কেউ থাকতো অন্যের আশ্রয়ে, আবার কেউ থাকতো খাসজমিতে ভাঙাচোরা ঘরে। দুই মাস আগেও তাদের ছিল না কোনো স্থায়ী ঠিকানা।
এ সকল গৃহহীন মানুষদের দুঃখ-দুর্দশা শিথিলের লক্ষ্যে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পে শুরু করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক ও নৃগোষ্ঠীসহ ছিন্নমূল, আশ্রয়হীন ও দুর্ভোগ পোহানো এ সকল মানুষগুলোকে জমিসহ ঘর উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশের সর্ব উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ২৭৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে উপহার সরূপ ঘর দেয়া হয়েছে। এসব ঘর পেয়ে বদলে গেছে এসব সুবিধাভোগী মানুষের জীবনমান। ২০২০-২১ অর্থবছর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়। প্রত্যেকটি ঘরে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহারের এই ঘরগুলো পেয়ে হাসি ফুটছে তাদের মুখে। টেকসই ও মজবুত পাকা ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন তারা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন-যাপন করছেন।
প্রশাসন সূত্র জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১ম পর্যায়ে ১৪২ টি ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৩৫টিসহ মোট ২৭৭টি ঘর বরাদ্দ পায়। জমি নেই ঘর নেই এমন 'ক' তালিকাভুক্ত। ১০ শতাংশ পর্যন্ত জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এমন 'খ' তালিকাভুক্ত এবং ১০ শতাংশ পর্যন্ত জমি আছে ঘর আছে কিন্তু জরাজীর্ণ এমন 'গ' তালিকাভুক্ত এমন মোট ২৭৭টি পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকা ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহারের এই ঘরগুলো তেঁতুলিয়া উপজেলাসহ ৫ উপজেলার স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ঘরের চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগী পরিবারদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা ঘর পেয়েছেন তারা আনন্দে ও স্বাচ্ছন্দ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন-যাপন করছেন। করোনাকালে সকল উপকারভোগীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য-সামগ্রী দেয়া হয়েছে। কোনো ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার যেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখাসহ তাদের নিয়মিত খোঁজ রাখা হচ্ছে।
এসআর/




