
করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের মার্চ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। এই দীর্ঘ সময়ের স্থবিরতায় অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম শুরু হলেও পরীক্ষা আটকে থাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যাচের সেশনজটের সাথে পাল্লা দিয়ে শিক্ষার্থীদের হতাশাও বেড়ে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পরীক্ষার রুটিন না পেলে কুবির শহীদ মিনারে আত্মহত্যা করার হুমকি দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির নৃবিজ্ঞান দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আনিসুর রহমান। তবে তাকে ফোন দিয়ে পরীক্ষার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী।
এই বিষয়ে উপাচার্য ড. এমরান কবির চৌধুরী আরটিভি নিউজকে বলেন, আমি ওর সাথে কথা বলেছি, ওর বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কথা বলেছে। আমরা বুঝিয়েছি, সে বুঝেছে। আশা করি কোনো সমস্যা হবে না। আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নিলে কালকেই নিতে পারবে। আর অফলাইনে নিলে আমাদের পরীক্ষাগুলো খুব শিগগিরই শুরু হয়ে যাবে।
একই বিষয়ে বিভাগটির বিভাগীয় প্রধান এন এম রবিউল আউয়াল চৌধুরী আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, আমি তার সাথে কথা বলেছি। যেন কোনো কিছু করার আগে আমার সাথে কথা বলে। আর বিভাগের প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। কারণ করোনার কারণে সবাই তো পিছিয়ে গিয়েছে। আমরা তাদের সেশনজট কমাতে অনলাইন পরীক্ষার দিকে অনেকদূর এগিয়েছি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ১২ হাজার সদস্যের একটি গ্রুপে আনিসুর রহমান আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেন, আমি কুবির বুকে শহীদ মিনারে আত্মহত্যা করবো।
আত্মহত্যার তারিখ হয়তো আর পিছাতে পারছি না! চার বছরে ৪ সেমিস্টার অপেক্ষার অবসান কোথায়? আত্মহত্যা ছাড়া কোন সমাধান দেখছি না।
আত্মহত্যা করতে চাওয়ার কারণ হিসাবে তিনি তার পোস্টে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অপর একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা টেনে বলেন, আমার বর্ষের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেটার অনার্স শেষ। ন্যাশনালে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ৪র্থ বর্ষে পড়ে। আমার একবছরের ছোট জাবিতে পড়ুয়া বোন আমার বর্ষের। কুবিতে ভর্তি হওয়াটা কি আমাদের অপরাধ ছিল? পরিবারে যখন অভাব আর অসুস্থতা থাকে তখন স্বপ্নগুলো কতটা লজ্জা পায় যেটা হয়তো প্রশাসন বুঝবে না। কারণ তাদের মাস শেষে অ্যাকাউন্টে বেতন ঢুকে যাচ্ছে, অভাব বলতে কিছু নেই।
এমআই/পি




