
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী সোমেশ্বরী নদীতে একটি সেতুর অভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পাঁচ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পার হচ্ছেন শিশুসহ বৃদ্ধরা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি থাকলেও কর্ণপাত করেনি কর্তৃপক্ষ। যদিও বরাবরের মতো আশ্বাসের বাণী উপজেলা এলজিইডির।
তিন দিকে ভারত থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদী আর উত্তর প্রান্তে ভারত সীমানায় বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়ের খারামোরা, রাঙাজান ও কোচপাড়াসহ পাঁচ গ্রামের অধিবাসীদের। বেশির ভাগ সময় নদীতে পানি থাকে হাঁটু পর্যন্ত। আর একটু বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি থাকে কানায় কানায় পূর্ণ এবং প্রচণ্ড স্রোত। এতে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না শিক্ষার্থীরা। বর্ডারে টহল দিতে পারে না বিজিবির সদস্যরা। প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা যেতে পারেন না ওইসব গ্রামে।
নদীর দুইপাশে তিনটি প্রাইমারি স্কুল, তিনটি মাদরাসা, মসজিদ, গির্জা ঘর ও সরকারি-বেসরকারি এনজিও অফিস রয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে সেতুর দাবি থাকলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি, শুধু পাওয়া যায় আশ্বাস। নদীতে পানি বেশি থাকলে নদী পার হতে না পেরে অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয় এলাকার নাগরিকদের। আবার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সময়মতো চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। তাই অনেক সময় বিনাচিকিৎসায় মারাও যায় অনেকে।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে নকশা ও মাটি পরীক্ষার কাজ চলছে, দ্রুত প্রকল্প প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। সেইসঙ্গে অনুমোদন পেলেই শুরু হবে নির্মাণকাজ।
আশ্বাস নয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে নদীর ওপর সেতু, বদলে যাবে পাহাড়ি জনপদের জীবন। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারবে শিক্ষার্থীরা। আর এ পথে বন্ধ হবে চোরাচালান এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এমআই/টিআই




