
বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েও ভোট করতে চান না আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরী। গত শনিবার (৪ ডিসেম্বর) ঢাকায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার চেয়ে তিনি লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে দলকে নতুন মুখ বেছে নিতে হবে।
রাজার পর নতুন মুখ হিসেবে শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আহসান হাবিব সবুজ অথবা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান আপেল মনোনয়ন পেতে পারেন বলে দল থেকে জানা গেছে।
এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাহার চেয়ে রাজার আবেদনের ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নৌকা ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে অসম্মান করার জন্য তাকে (রাজা) দল থেকে বহিষ্কার করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরী আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, আমার আপন চাচাত ভাই আওলাদ চৌধুরী প্রতিবার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট করেন। মনোনয়ন চাওয়ার আগে আওলাদ পারিবারিকভাবে ওয়াদা করেছিলেন আমি নৌকা প্রতীক পেলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসবেন। তবে তার কথা তিনি রাখেননি। আমি মনে করছি, একই বাড়ি ও পরিবার থেকে দুই ভাই ভোট করলে কেউ উঠতে পারব না। আমি হেরে গেলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। এর চেয়ে ভালো অন্য কেউ নৌকা মার্কা নিয়ে ভোট করুক। আমি তার পক্ষে কাজ করব।
অভিযোগের ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী বড় ভাই আওলাদ চৌধুরী আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, আমি কয়েক যুগ থেকে নির্বাচন করছি। কে ভোট করবে আর করবে না, সেটা তার ব্যক্তিগত। আমার বিরুদ্ধে এগুলো অপপ্রচার। আমি মাঠে ছিলাম, আছি এবং থাকব।
শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি আবদুল হালিম আরটিভি নিউজকে বলেন, নৌকা পাওয়ার পর ভোট না করার সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। এই ঘটনায় দলের প্রধান শেখ হাসিনা ও নৌকা প্রতীককে অবমাননার শামিল। এ জন্য আমরা ওয়াশিম রেজা রাজা চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজী জুয়েল জানান, আমরা জেলা থেকে কেন্দ্রের কাছে কয়েকজনের নাম দিয়েছিলাম। কেন্দ্র এখন সিদ্ধান্ত দেবে মোকামতলা থেকে নৌকা প্রতীকে কে ভোট করবেন। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এমআই/টিআই




