
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা মুরাদ হাসানের জন্য ফেসবুক লাইভে অঝোরে কাঁদা জামালপুরের সেই রানা সরকার যুবলীগের সদস্য নন বলে জানিয়েছেন সরিষাবাড়ী উপজেলা যুবলীগের নেতারা।
সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে রানা নিজেকে উপজেলা যুবলীগের সদস্য দাবি করেছিলেন। তার ১৫ মিনিটের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। লাইভ করার ২২ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, ভিডিওটি দেখা হয়েছে পৌনে দুই লাখ বার। এতে লাইক পড়েছে ১৫ হাজার, কমেন্ট করেছেন ৬ হাজার ৪০০ জন ফেসবুক ব্যবহারকারী। তবে বুধবার রাত থেকে ভিডিওটি তার ওয়ালে আর দেখা যাচ্ছে না।
ভিডিওতে নিজেকে উপজেলা যুবলীগের সদস্য দাবি করলেও তিনি ওই সংগঠনের কেউ নন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এ কে এম আশরাফুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমডি রানা (২৬) উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর গ্রামের আসাদের মেজো ছেলে। রাজনীতিতে তার হঠাৎ উদয়। তিনি ২০১৮ সালে সুযোগ বুঝে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ঢুকে পড়েন। ডা. মুরাদ হাসানের নির্দেশে পরিচালিত মুকুল বাহিনীর প্রধান ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি এলাকার চাঁদাবাজি, ইভটিজিংসহ নানান অপকর্মে জড়িত। তার জন্য এলাকার নারীরা রাস্তায় বের হতে ভয় পেতেন। তাছাড়া দুর্নীতির নিউজ করায় ২০২০ সালে মুকুল বাহিনীর প্রধান সমন্বয়ক মুকুলের নেতৃত্বে এক সাংবাদিককে বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত করেন। একই বছর শিমলা বাজারের রাম স্টোর থেকে চাঁদা না পেয়ে দোকানের স্বত্বাধিকারীকে মারধর করেন। মুরাদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে কেউ কিছু বলারও সাহস করত না তাকে।
লাইভে তিনি জানান, মুরাদ হাসান প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তার আশীর্বাদপুষ্ট হয়েছেন আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী। অসংখ্য নতুন কর্মী বাগিয়ে নিয়েছেন বহু সুযোগ-সুবিধা। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন সময় ভুল বক্তব্য দিতেন। কিন্তু সুবিধাভোগী তেলবাজ নেতাকর্মীরা ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে আরও উৎসাহ দিয়েছেন। ফলে ভুলভাল মন্তব্য করে বারবার সমালোচিত হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমার নেতা এখন সব হারিয়েছে, তার এ দুঃসময়ে তার পাশে এখন আর কেউ নেই।
তবে তার এ কান্নাজড়িত ভিডিওটি দেখে সহমর্মিতার পরিবর্তে অনেকেই তাকে গালাগাল করেছেন, তেলবাজ বলেছেন।
এদিকে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এ কে এম আশরাফুল ইসলাম জানান, এমডি রানা হঠাৎ করেই ২০১৮ সালে স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। উপজেলা যুবলীগে তার কোনো পদবি নেই।
এ বিষয়ে এমডি রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মূলত বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
এমআই/টিআই




