
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে চিন্তিত আওয়ামী লীগ। ফলে নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ততই সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা। এছাড়াও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউপিতে এবার চেয়ারম্যান পদে ৩৭ জন, সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য পদে ৭৪ জন এবং সাধারণ ইউপি সদস্য পদে ২১৮ জন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এছাড়াও চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৩০ জন রয়েছেন।
সরেজমিনে ঘুরে এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাদেকপুর ও শিবপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও বাকি ৫টি ইউনিয়নে অর্থ্যাৎ আগানগরে দুইজন, শিমুলকান্দিতে তিনজন, গজারিয়ায় দুইজন, কালিকাপ্রসাদে একজন ও শ্রীনগর ইউনিয়নে একজনসহ ৯জন প্রভাবশালী বা হেভিওয়েট বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। ফলে এসব বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে এমন প্রার্থী জট নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকায় খোদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও রয়েছেন।
আর সাধারণ ভোটারদের মতে, তৃণমূলের জনপ্রিয় অনেক প্রার্থী মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। আর এই ভুলের খেসারত ভোটের দিনে দিতে হতে পারে। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বা সামাল দিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা দিনরাত দলীয় প্রার্থীদের নৌকা মার্কার পক্ষে প্রচার প্রচারণাসহ পথসভা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে প্রচারণা-প্রচারণা বা পথসভাগুলোতে অনেক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, কোন কোন পথসভায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠছেন নেতারা।
এদিকে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী গজারিয়ার ইউনিয়নের কাইসার আহমেদ ভূইয়া, আগানগর ইউনিয়নের সেলিম আহমেদ ও শিমুলকান্দি ইউনিয়নের আব্দুল আজিজের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন পথসভায় ভয়-ভীতি এবং হুমকি প্রদান করে আসছেন। এছাড়াও লাগামহীন বক্তব্য দিচ্ছেন। যার ফলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাদের মতে নেতাদের এমন আচারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে উপজেলার ৭ ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতেই জনসমর্থনের দিক দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীরা অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে বিএনপি দলগতভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি সমর্থিত হেভিওয়েট পাচজন প্রার্থী মাঠে রয়েছে। ফলে এ নিয়েও চিন্তিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ফলে প্রায় ৭টি ইউনিয়ে বিদ্রোহী কিংবা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা নৌকার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
ইউপি নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করে কেউ দলীয় পদে থাকতে পারবে না। অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে ভৈরব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, আগামী ২৬ ডিসেম্বর ভৈরবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার ৭টি ইউনিয়নের সর্বমোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
তিনি আরও জানান, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৭০টি ভোট কেন্দ্র ভোটাররা তাদের ভোট প্রদান করবেন।
এমআই




