
পাবনায় কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে তিন উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ভোটগ্রহণ।
স্বাক্ষরবিহীন ব্যালটে নৌকা প্রতীকে ভোট নেওয়ার অপচেষ্টা, ব্যালট পেপার ছিনতাই, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ফাঁকাগুলি, নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
চতুর্থ দফার নির্বাচনে রোববার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর পর বেশ উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এ সময় প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে পুরুষ ও নারী ভোটারদের দীর্ঘলাইন চোখে পড়ে।
প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল সন্তোষজনক। সদর উপজেলার মালিগাছা, সাদুল্লাহপুর, হেমায়েতপুর, চরতারাপুর, মালঞ্চি, দোগাছি, আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর, একদন্ত, চাঁদভা, মাজপাড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো। কারও কোনো বাধা ছাড়াই ভোটাররা নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছেন।
কেন্দ্রগুলোতে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি। যার কারণে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা ভোট কাটার চেষ্টা চালালেও প্রশাসনের বাধার মুখে ব্যর্থ হয়।
এদিকে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুর দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে দুপুরে ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে নৌকা ও স্বতন্ত্রের সমর্থকরা।
চরঘোষপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের ইনচার্জ (এসআই) তরিকুল ইসলাম বলেন, ব্যালট পেপার ছিনতাই করার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ ২৪ রাউন্ড গুলিসহ ৪টি রাবার বুলেট ও ২০টি টিআর শেল নিক্ষেপ করা হয়।
সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের আতাইকান্দা এলাকায় বিশৃঙ্খলা ঠেকাত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। মালঞ্চি ইউনিয়নের নুরপুর কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের সাক্ষর না থাকায় নৌকার সিল মারা ৭৬টি ব্যালট বাতিল করা হয়।
এ ছাড়া আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের পারখিদিরপুর কেন্দ্রের বাইরে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়। দেবোত্তর ইউনিয়নের দুটি কেন্দ্রের বাইরে ভোট কাটার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ভাঙুড়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রোখছানা নাসরিন।
বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর সাথে আলাপকালে নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অপরদিকে আটঘরিয়া পৌরসভায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বলে জানান জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ১৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আনসার ও পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত ছিল। সেই সাথে স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে ৪ প্লাটুন বিজিবি ও র্যাবের টহল জোরদার ছিল। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও তৎপরতার কারণে উল্লেখযোগ্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
জিএম/এসকে




