
টাঙ্গাইলের তিনটি উপজেলার ২১ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২০টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। একটি ইউনিয়নে ফলাফল স্থগিত রয়েছে। এরমধ্যে নয়টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এবং ১১টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। রোববার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে ভোট গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা এই ফল ঘোষণা করেন।
ভূঞাপুর উপজেলার আকালু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হওয়ায় আলোয়া ইউনিয়নের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের নির্বাচনের সাথে স্থগিতকৃত এ কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আফজাল হোসেন, বাঘিল ইউনিয়নে এসএম মতিয়ার রহমান মন্টু, ঘারিন্দা ইউনিয়নে তোফায়েল আহম্মেদ, করটিয়া ইউনিয়নে খালেকুজ্জামান মজনু, স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে মগড়া ইউনিয়নে নুরই আলম তুহিন, পোড়াবাড়ি ইউনিয়নে শাহাদত হোসেন, গালা ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম খান ও মগড়া ইউনিয়নে মোতালেব হোসেন জয়লাভ করেছেন।
ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিদারুল আলম খান মাহবুব, ফলদা ইউনিয়নে সাইদুল ইসলাম তালুকদার, গোবিন্দাসী ইউনিয়নে দুলাল হোসেন চকদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী গাবসারা ইউনিয়নে শাহ আলম ও নিকরাইল ইউনিয়নে মাসুদুল হক মাসুদ জয়লাভ করেছেন।
ঘাটাইল উপজেলার দেওলাবাড়ি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সুজাত আলী খান, আনেহলা ইউনিয়নে তালুকদার শাজাহান, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘাটাইল সদর ইউনিয়নে মিজানুর রহমান হীরা, লোকেরপাড়া ইউনিয়নে সহিদুল হক মিলন, দিগলকান্দি ইউনিয়নে রেজাউল করিম মটু, দিঘর ইউনিয়নে ফারুক হোসেন ফনি ও দেওপাড়া ইউনিয়নে রুহল আমীন হেপলু জয়লাভ করেছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল ইমলাম জানান, স্থগিত ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের আকালু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হবে। টাঙ্গাইলের ২০টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নয়জন এবং ১১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে ভোট গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা এই ফল ঘোষণা করেন।
এদিকে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ১১টি ইউনিয়নে পরাজয়ের নেপথ্যে দলীয় কোন্দল ও প্রার্থী বাছাইকে দায়ী করছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। সবচেয়ে বেশি ভরাডুবি হয়েছে ঘাটাইল উপজেলায়। এ উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫ টিতেই হেরেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। দুইটিতে জয়ী হয়েছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। এ ছাড়াও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও চারটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছে। ভূঞাপুর উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও দুইটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে দলীয় কোন্দল দেখা দেয়। এতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী বাছাই নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা হেরেছে।
এমএন/এসকে




