
‘মালা কার লাগিয়া গাঁথিরে মালা.. কার লাগিয়া গাঁথি...। অজানা কোন নদীর স্রোতে আমি হারাইয়াছি সাথিরে মালা কার লাগিয়া গাঁথি...।’ হৃদয় ছোঁয়া এই গানে প্রেম-ভালোবাসায় আবেগী মনকে নাড়া দেয়।
গানের সুরে ব্যর্থ প্রেমিক -প্রেমিকেরা হারিয়ে যান পুরনো স্মৃতির পাতায়। জনপ্রিয় এই গানের সখির জন্য মালা গাঁথা না হলেও সাধারণ ভোটাররা মালা গেঁথে রেখেছেন সদ্য বিজয়ী চেয়ারম্যানের জন্য। এ মালা আবার টাকার মালা। আর এ মালা পরানো হলো দেওপাড়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত বিজয়ী চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমীন আকন্দ হেপলুর গলায়।
নির্বাচনে জয়ী চেয়ারম্যান টাকার তৈরি জয়ের মালা গলায় নিয়ে ঘুরছেন নিজ নির্বাচনী ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে। টাকার মালা পরানো যেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নে প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর দেওপাড়া ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্বাচিত হওয়ার পর বিজয়ী চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমীন আকন্দ ছুটছেন ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে। ভোটাররাও কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীর বিজয়ে উচ্ছ্বাসিত। তাদের জন্য গেঁথে রেখেছেন টাকার মালা। পরিয়ে দিচ্ছেন গলায়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় মো. হেলাল তালুকদার আরটিভি নিউজকে বলেন, বাবা-দাদার আমল থেকেই দেখছি আমাদের অঞ্চলে ভোটে জেতা প্রার্থীদের গলায় টাকার মালা পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। ভোটাররা আগে ভাগেই টাকার মালা গেঁথে অপেক্ষা করেন তাদের বিজয়ী মেম্বার-চেয়ারম্যানের জন্য।
দেওপাড়া ইউনিয়নের বিজয়ী চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমীন আকন্দ হেপলু আরটিভি নিউজকে বলেন, ভোটারদের এ মালা, ভালোবাসার মালা। জয়ের মালা। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দোয়া। অনেকের কষ্ট হলেও এ মালা গেঁথে রাখেন। এটা আমাদের এলাকায় প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি এ মালার যথার্থ মূল্যায়ন করার চেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, এই পর্যন্ত আমাকে ১৬টি টাকার মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছে ইউনিয়নবাসী। যাতে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা রয়েছে। ভোটের আগে যেমন মানুষের বাড়ি গিয়েছিলাম। তাদের ভোটে জয়ী হওয়ার পর এখনো বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। তারা আমাকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে টাকার মালা পরিয়ে বুকে জড়িয়ে নেন। টাকার মালা দিয়ে আমাকে আমার ইউনিয়নবাসী বরণ করেছেন। আমিও আমার কর্মের মধ্য দিয়ে তাদের এই ভালোবাসা ও সম্মানের প্রতিদান দেব ইনশাআল্লাহ।
এমআই




