
সাগর এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ নদীতে বিলুপ্ত প্রজাতির শাপলাপাতা মাছ শিকার নিষিদ্ধ ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও কেউ তা মানছেন না। স্থানীয় প্রশাসন এমনকি মৎস্য বিভাগ এবং বনবিভাগের কর্তা ব্যক্তিরা নীরব থাকায় অহরহ এই মাছ বাজারে আসছে।
শাপলাপাতা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ‘স্টিংরে ফিস’। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) কর্তৃক শাপলাপাতা মাছকে বিপণ্ন প্রায় প্রজাতি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ সালের আইনানুযায়ী এই মাছ শিকার নিষিদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) সকালে মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন বিক্রেতা ডালায় শাপলা পাতা মাছ সাজিয়ে হাকডাক দিয়ে বিক্রি করছেন। কেজি ৪০০, কেজি ৪০০, তাজা মাছ ৪০০ খাইলে আবার আসবেন। এ রকম চটকারি হাক দেওয়ার ঘোষণায় ক্রেতারাও হুমরি খেয়ে কিনছেন। তবে এই মাছ শিকার এবং বিক্রি যে নিষিদ্ধ, তা জানেন না বলে দাবি বিক্রেতাদের।
মোংলা পোর্ট পৌরসভা মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. আফজাল ফরাজি ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল হালিম আরটিভি নিউজকে বলেন, প্রায় প্রতিদিনই সাগর থেকে জেলেরা শাপলাপাতা মাছ বাজারে আনছেন। এই মাছ ধরা বা বিক্রি যে নিষিদ্ধ, তা আমরা জানি না, আমাদের কেউ বলেনি। সাগর থেকে এই মাছ শিকার করে নদীপথে আনার সময়ও বনবিভাগের কোনো কর্মকর্তাও বাধা দেয় না।
মৎস্য ব্যবসায়ী মো. সোলায়মান দাবি করেন, বনবিভাগের লোকজনই তাদের শাপলাপাতা মাছ বাজারে আনার সহায়তা করেন। তারা নিষেধ করলে তো আর এই মাছ বাজারে ওঠানো সম্ভব না।
অন্য এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বিএম (বোটম্যান) মো. মিজানুর রহমান এসব মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি করতে তাদের কাছ থেকে কয়েক দফা টাকা নিয়েছেন।
তবে বিএম মিজানুরের দাবি, ব্যবসায়ীরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো আরটিভি নিউজকে বলেন, প্রচার প্রচারণার অভাবেই মূলত কেউ জানেনা এই শাপলা পাতা মাছ শিকার নিষিদ্ধ। এখন থেকে মাইকিং করে এটার বিরুদ্ধে সতর্ক করবো আমরা। আর বিএম মিজানুর রহমানের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রউফ আরটিভি নিউজকে বলেন, সাগর বা সমুদ্র থেকে দিনের পর দিন এভাবে নিধন চলতে থাকলে একসময় এই শাপলা পাতা মাছ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
বনবিভাগের কর্তা ব্যক্তিদের উদাসীনতার কারণেই এমন শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, এই শিকার হওয়ায় জীব বৈচিত্র্য বাধাগ্রস্থ হবে। সাগরে এই মাছের নিধন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।




