
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন সকালে শহীদবেদিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি রহুল আমিন শহীদ বেদিতে ফুল দেন। পরে বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাংশ যুগ্ম সম্পাদক সালাম সরদার তার সমর্থকদের নিয়ে ফুল দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রহুল আমিনের সমর্থকরা বালিয়াটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোল বাধে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জাকির ও নাজমুল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়। নাজমুলের অবস্থা গুরুতর হলে তাকে সাটুরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে পাঁচজন।
বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রহুল আমিন জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুল দিয়েছি। এরপর আওয়ামী লীগের ব্যানারে বহিষ্কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান মীর সোহেল আহম্মেদ চৌধুরী তাদের সঙ্গে আরেকটি ফুল দিতে গেল আমি আপত্তি করি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়; যা খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
বালিয়াটি ইউপি চেয়ারম্যান মীর সোহেল আহম্মেদ চৌধুরী জানান, আমি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে শহীদবেদিতে ফুল দিই। পরে দলীয় আওয়ামী লীগের ব্যানারে ফুল দেয়। আমি বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করি। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করে। পরে বহিষ্কার প্রত্যাহার করা হয়। এ কারণে দলীয় ব্যানারে ফুল দিয়েছি। এতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রহুল আমিন আপত্তি করলে সংঘর্ষের রূপ নেয়।
সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আফাজ উদ্দিন বলেন, শহীদবেদিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম বলেন, ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাধলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




