ঢাকাশুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

বাঁধ ভেঙে তলিয়েছে হাজারও কৃষকের স্বপ্ন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৫ এপ্রিল ২০২২ , ১০:০৭ পিএম


loading/img
হাওরের বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার কৈয়ারবন ও পুটিয়া হাওরে বাঁধ ও ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্রসোনা থালা হাওরের বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে নতুন করে তিন হাওরে পানি প্রবেশ করে। এতে অন্তত চার হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে শাল্লা উপজেলার কৈয়ারবন ও পুটিয়া হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে। হাওরের ৪০ হেক্টর ফসলি জমি নিমিষেই তলিয়ে যায়। তবে এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো’র) আওতার বাহিরে।

বিজ্ঞাপন

গত তিন দিন ধরে স্থানীয় কৃষকেরা দিনরাত মাটি কেটেও বাঁধটিকে টিকিয়ে রাখতে পারেনি।

স্থানীয়রা পাউবোকে দোষারোপ করে আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, শাল্লা ব্রিজের পাশে হাওর রক্ষা বাঁধের একটি প্রকল্প দিলে অকাল বন্যায় চোখের সামনে তলিয়ে যেত না এই ফসলি জমি। অন্য বছর এই জায়গায় প্রকল্প দেওয়া হলেও এ বছর কোনো প্রকল্প না দেওয়ায় অকাল বন্যায় তলিয়ে ভেসে গেল ফসলি জমি। কাঁচা ধান তলিয়ে কৃষকদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। নিঃস্ব হয়ে গেছে কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘুঙ্গিয়ারগাঁও ও ডুমরা গ্রামের লোকজন এই হাওরেই জমি করেছে। এই দুই গ্রামের শতভাগ ভাগ মানুষের ভাগ্য পানিতে গেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা দাবি প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হেক্টর জমি অকাল বন্যায় ভেসে গেছে। তবে প্রশাসনের দাবি ৪০ হেক্টর জমি।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৈয়ারবন ও পুটিয়া হাওরে ৪০ হেক্টর জমি বোরো চাষ হয়েছে। তবে এই হাওরের কোনো ফসলি জমি এখনও কাটা হয়নি।

ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের কৃষক রাজন রায় আরটিভি নিউজকে বলেন, ৮ কেয়ার জমি করেছি। সবকিছু তলিয়ে গেছে। বাঁচার কোনো পথ নেই। ছেলে মেয়ে কীভাবে নিয়ে চলব, সেই দিকটি চিন্তা করছি। পানি আসার আগে কয়েকবার প্রশাসনের কাছে গেছি একটা ব্যবস্থা করার জন্য। পরে নিজেরাই মাথায় করে মাটি ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেছি শেষ বারের জন্য আমরা চেষ্টা করে গেলাম। রক্ষা করতে পারলাম না আমাদের ফসলি জমি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু তালেব আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, কৈয়ারবন ও পুটিয়া হাওরে প্রায় ৪০ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতার বাহিরে। এরপরও আমরা চেষ্টা করেছি ফসলি জমি রক্ষা করার। কিন্তু উজানের পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইর রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরে কংস নদের ডুবাইল বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় হাওরে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল।

ধর্মপাশা উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন এবং শাল্লা উপজেলার মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ূম বাঁধ ভাঙার বিষয়টি আরটিভি নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিজ্ঞাপন


© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৬-২০২৫ | RTV Online |