নরসিংদীতে ৮ মাসের শিশুসন্তানকে গলাকেটে হত্যার দায়ে বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামীমা পারভিন এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামের আপন মিয়ার সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার বড়াইল গ্রামের মোসা. মারুফা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা রায়পুরার মরজাল এলাকায় বসবাস শুরু করেন। এর মধ্যে তাদের কোল জুড়ে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। ওই সময় আপন মিয়া পার্শ্ববর্তী আফরোজা বেগমের সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পরে। এরপর থেকে প্রেমিকা আফরোজা ও আপন মিয়া তার স্ত্রী মারুফা ও সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল।
ঘটনার দিন (২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর) সকালে শিশুর মা মারুফা রান্না ঘরে কাজ করছিল। ওই সময় পিতা আপন মিয়া তার ৮ মাসের শিশুসন্তানকে গলাকেটে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে বাড়ির লোকজন শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। এ ঘটনায় শিশু মাহিনের মা বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারের পর আপন মিয়া হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালত উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক ও প্রমাণাদি দেখে বিচারক আপন মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। মামলায় বাদী পক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মুনসুর আলী শিকদার। আসামি পক্ষে কৌঁসুলি ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন।