
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকে ধরা পড়েছে ২৭ কেজি ২শ গ্রাম ওজনের কালো পোপা। মাছটি সাগর থেকে ঘাটে আনা হলে দাম হাঁকা হয় সাড়ে ৭ টাকা লাখ টাকা। মাছের দাম অত্যধিক হওয়ায় স্থানীয়রা মাছটি কিনতে পারেননি। তারপরেও ৪ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) ভোরে শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়া এফবি, এ, এম নামে ফিশিং ট্রলার সাগরে গিয়ে জাল পাতলে মাছটি ধরা পড়ে। দুপুরের দিকে ট্রলারটি শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রী পাড়া ঘাটে ভেড়ে মাছটি স্থানীয় বাজারে তোলা হয়।
স্থানীয় লোকজনের কাছে মাছটি ‘কালা পোপা’ নামে পরিচিত। এ মাছের মূল আকর্ষণ হলো পেটের ভেতর থাকা পটকা বা বায়ুথলী (এয়ার ব্লাডার) দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা হয়। এ জন্যই পোপা মাছটির কদর ও দাম অনেক বেশি।
মাছ ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, স্থানীয় এক জেলে জালে ধরা পড়েছে ২৭ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের একটি কালা পোপা মাছ। মাছটির দাম হাঁকানো হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত এই মাছের দাম সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। তবে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সন্ধ্যায় মাছটি কক্সবাজারে পাঠানো হয়েছে।
ট্রলারের মাঝি মোহাম্মদ হাসু জানান, গেল সোমবার সকালে মাছ ধরার জন্য শাহপরীর দ্বীপ থেকে ৯ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা হন। এর মধ্যে আজ ভোরে জেলেরা জাল উঠাতে গিয়ে দেখেন জালে বিভিন্ন প্রজাতির একাধিক মাছের সঙ্গে বড় একটি কালা পোপা মাছ আটকা পড়ে। মাছটি ট্রলারে তোলার পর মালিককে জানালে তিনি ট্রলারটি নিয়ে ঘাটে চল আসতে বলেন। সামনে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মাছটি পেয়ে অনেকেই বলাবলি করছিল খরচ উঠে যাবে। বেশি দামে বিক্রি করার জন্য প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।
বড় একটি পোপা মাছ ধরা পড়ার খবর তিনি ইতোমধ্যে শুনেছেন জানিয়ে টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এসব ভিন্ন প্রজাতির মাছ সব সময় ধরা পড়ে না। তবে এ বছর সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রাখার পর থেকে মাছ ও প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিভিন্ন সময় দামি ও বিভিন্ন মাছ ধরা পড়ছে। নিঃসন্দেহে জেলেদের জন্য এটি সুখবর।
মাছটি দাম বেশি হওয়ার পেছনে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এই মাছের বায়ুথলী দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা যায় বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই মাছের চাহিদা আছে। এই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম মিকটেরোপারকা বোনাসি (Myeteroperca bohaci)।




