উজানের ঢলে চতুর্থ দফায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে দেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে। সিলেটের সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিতে ডুবে গেছে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও বাসাবাড়ি।
এ ছাড়া ছাতক, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরসহ সাতটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি আছে লাখের বেশি মানুষ। বন্ধ আছে দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
গতরাতে জেলার দোয়ারাবাজারের দোহালিয়া-বাজিতপুর সড়কের একটি পাকা সেতু ভেঙে গেছে। পানিতে ডুবে আছে সিলেট নগরীর ২০টি এলাকায়। পাশাপাশি জেলার গোয়াইনঘাট, কানাইঘাটসহ পাঁচটি উপজেলার ঘরবাড়ি, রাস্তা-ঘাট দোকানপাট তলিয়ে গেছে।
পশ্চিম তেঘরিয়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘরে এখন হাঁটু পানি। মালপত্র সব নিয়ে বিছানার ওপর বসে আছি। কোনো ত্রাণ আমরা পাইনি। কিতা করতাম, কই যাইতাম, বুঝতাম না।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুরমার পানি দিরাইয়ের পুরাতন এলাকার পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার, ছাতক পয়েন্টে ২ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া তাহিরপুর এলাকায় জাদুকাটা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, সুনামগঞ্জে বৃষ্টি থাকলেও উজানের বৃষ্টিপাত হচ্ছে খুবই বেশি, যার ফলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। উজানে বৃষ্টিপাত কমলে এই পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।