
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগের প্রতি উচ্চমাত্রায় সহনশীল ও উচ্চ-ফলনশীল বাউ সরিষা-৪, বাউ সরিষা-৫, বাউ সরিষা-৬, বাউ সরিষা-৭, বাউ সরিষা-৮ উদ্ভাবিত হয়েছে। তবে উচ্চফলনশীল সরিষার এই জাত সমূহ উদ্ভাবন করেছেন বাকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফ হাসান খান রবিন ও তার গবেষক দল।
সোমবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ড. রবিন জানান, নানান রোগ ও পোকার আক্রমণ দেশে সরিষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় বাধা। যার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগ। এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ। রোগটি এককভাবে তেলবীজের ফলন ৩০-৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমির শতভাগ ফসল নষ্ট করে দেয়। নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলো অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগের প্রতি উচ্চমাত্রায় সহনশীল এবং প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রতিরোধী। আগাম ও স্বল্প জীবনকালের আমন ধান চাষের পর একই জমিতে এই সরিষার জাতগুলো কৃষকরা চাষ করতে পারবে। বিগত তিন বছর যাবত বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রকল্পটির গবেষণা চলমান রয়েছে। গবেষণা প্রকল্পটির সঙ্গে উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান।
সরিষার উপকারিতা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরিষার তেলে মনোআনসেচুরেটেড এবং পলিআনসেচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এ ছাড়াও ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি আদর্শ অনুপাত (২.৫:১) থাকায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য অতি উপকারী। এ ছাড়াও সরিষার তেল হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।
তিনি আরও জানান, উদ্ভাবিত জাত পাঁচটি ব্রাসিকা জুনসিয়া প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। প্রচলিত জাতের চেয়ে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ বেশি ফলনশীল এই জাতগুলো অতিরিক্ত আর্দ্রতাতেও ১০০ দিনের মধ্যে দানা পরিপক্ব হতে সক্ষম। দেশে বর্তমানে প্রায় ০.৩ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়। পুষ্টিগুণ, স্বাদ ও ঝাঁঝের কারণে রসনাবিলাসের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করছে সরিষা। সরিষার তেলবীজে জাতভেদে ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ তেল থাকে। এ উৎপাদন দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১৫-২০ শতাংশ পূরণ করছে। ভোজ্যতেল আমদানিতে বাংলাদেশকে প্রতিবছর ২ হাজার ১শ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়। সরিষা জাতগুলো আবাদের মাধ্যমে দেশে ভোজ্যতেলের সংকট অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. আরিফ হাসান খান রবিন নিউজিল্যান্ডের ম্যাসি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২০১১ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় সুনচুন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট ডক্টরেট গবেষণা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি সরিষা, ধান, গম ও মিষ্টি আলুর উন্নত জাত উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা করছেন। অধ্যাপক রবিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২০১৮, ২০২০ এবং ২০২২ সালে ‘সেরা প্রকাশনা অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত হন। এ ছাড়া ২০২২ সালের বাউরেসের বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি কর্মশালায় সেরা ‘প্রবন্ধ উপস্থাপক’ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত হন।




