
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত এলাকায় ‘খাবার হোটেল মালিক সমিতির’ ডাকা ধর্মঘটে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের খাবার হোটেল-রেস্তোরাঁ। এ কারণে চরম বিপাকে পর্যটকরা।
বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে এ দৃশ্য দেখা যায়।
জানা গেছে, পর্যটকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাসব্যাপী ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে খাবার হোটেলগুলোতে জরিমানা করার পরও মানহীন খাবার পরিবেশন করছে। মানসম্মত খাবার পরিবেশনে ব্যর্থ হওয়ায় কয়েক তফা জরিমানা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে খাবার হোটেল মালিক সংগঠন আজ বুধবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে খাবার হোটেল রেস্তোরাঁ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়। আর এতে ভোগান্তিতে পরেছে আগত পর্যটকরা।
এদিকে কোনো প্রকার আগাম নোটিশ ছাড়াই খাবার হোটেল বন্ধ করে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পরা পর্যটকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আজ বুধবার সকাল থেকেই খাবার হোটেল বন্ধ থাকায় নিরুপায় হয়ে পর্যটকরা পাঁচ কিলোমিটার দূরে মৎস্যবন্দর আলীপুরে চলে যায়। কিন্তু পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় আলীপুরের হোটেলগুলো খাবার সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে দেখা যায়। পর্যটকদের কথা চিন্তা করে আজ বুধবার দুপুর থেকে পর্যটন মোটেলের রেস্তরাঁ সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব আবাসিক হোটেলে রেস্তরাঁ রয়েছে সেগুলোও খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আবাসিক হোটেল মালিকদের সংগঠন।
কুয়াকাটা খাবার হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মো. সেলিম মুন্সী বলেন, প্রতিদিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাবার হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নামে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করছেন। একই হোটেলকে একাধিকবার এই জরিমানার আওতায় নেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্টের নামে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই কুয়াকাটার সকল খাবার হোটেল মালিক একত্রিত হয়ে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আবাসিক হোটেল মালিকদের সংগঠন কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ মোতালেব শরীফ বলেন, খাবার হোটেল বন্ধ থাকা বা রাখা সমাধান নয়। পর্যটকদের স্বার্থে ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক বলেন, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় খাবার হোটেল মালিকদের আকস্মিক ধর্মঘট ডাকাটা অযৌক্তিক। পর্যটকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের গুরুত্বে কুয়াকাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। জরিমানা করার পরও খাবার হোটেল মালিকরা পর্যটকদের পচা বাসি খাবার পরিবেশন করছে। খাবার হোটেল মালিকরা তাদের যৌক্তিক দাবি থাকলে জেলা প্রশাসককে জানাতে পারেন।




