
ঝালকাঠিতে বাংলাদেশে নৌ শ্রমিক ফেডারেশন ১০ দফা দাবিতে নৌ ধর্মঘট পালন করছেন। ধর্মঘটের ফলে যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
নৌ শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা এ ধর্মঘটে ঝালকাঠি জেলার ভেতরে এবং দূরপাল্লার নৌ চলাচল বন্ধ রেখে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। ফলে ঝালকাঠি থেকে পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনাসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
নৌ শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বারবার আশ্বাস দিয়েও তাদের দাবি পূরণ করছে না সরকার এবং মালিক পক্ষ। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। ধর্মঘটে সুগন্ধা নদীতে জাহাজগুলো নোঙর করে রাখা হয়েছে।
সুন্দরবন লঞ্চের কেরানি ইনচার্জ মো. বাবুল হোসেন বলেন, শনিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে রোববার সকালে ঝালকাঠি আসছি। মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ নৌ শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে ধর্মঘট চলছে। ফলে ঝালকাঠি থেকে ঢাকা যাওয়া বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক ফেডারেশন ধর্মঘট প্রত্যাহার করলে লঞ্চ চলাচল শুরু হবে।
ঝালকাঠি সুন্দরবন লঞ্চের মাস্টার মো. রুহুল আমিন বলেন, বাংলাদেশ নৌ শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে ১০ দফা দাবিতে ঝালকাঠিতে নৌ ধর্মঘট চলছে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি হলো, নৌ শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদানসহ সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, খাদ্য ও সমুদ্র ভাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা, দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা, চট্টগ্রাম থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশের স্বার্থবিরোধী অপরিণামদর্শী প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা, বালুবাহী বাল্কহেড ও রাতে ড্রেজার চলাচলের উপরে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিথিল, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ভারতগামী শ্রমিকদের লান্ডিং পাস প্রদানসহ ভারতীয় সীমানায় সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করে সকল লাইটারিং জাহাজকে সিরিয়াল মোতাবেক চলাচলে বাধ্য করা, চরপাড়া ঘাটে ইজারা বাতিল ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনিয়ম বন্ধ করা।




