
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় এক যুবকের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে ভিক্ষুকের প্রতিবন্ধী এক মেয়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহানশাহকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করছেন ভুক্তভোগীর মা।
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক আবেদ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) গোপালপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীর মা। উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভালোবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভালোবাড়ি গ্রামের গোলাপ হোসেনের ছেলে শাহানশাহ (৩৫)।
এদিকে আদালতে মামলা দায়ের করে বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযুক্ত শাহানশাহ ও তার স্বজনরা গর্ভপাত করাতে মা ও মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ নিয়ে এলাকায় একাধিক গ্রাম্য সালিসে কোনো প্রতিকার না পেয়ে বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর মা ও মেয়ে গোপালপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এ সময় ভুক্তভোগী ও তার মা এবং ওই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদ ও মনির হোসেনসহ গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভালোবাড়ি গ্রামের বিধবা এক নারী তার বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মাঝে মাঝে বিধবা তার মেয়েকে বাড়িতে একা রেখে ভিক্ষার জন্য বের হয়। সেই সুযোগে মামলার আসামি প্রতিবেশী প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেয়। মেয়েটি রাজি না হওয়ায় ৮-৯ মাস আগে ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আর এই ধর্ষণের বিষয় কাউকে না জানানোর জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে একই কায়দায় বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্ষণ করে। টানা ধর্ষণের ফলে মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। গত ১১ আগস্ট গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করালে জানা যায় মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে ১২ আগস্ট এ নিয়ে স্থানীয় সালিসে সাক্ষীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে ধর্ষণের বিষয়টি শাহানশাহ স্বীকার করে। তখন স্থানীয়রা মেয়ের মাকে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে মেয়ের মা বাদী হয়ে আদালতে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক আবেদ আলী জানান, মামলার তদন্ত শেষ। প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।




