
কক্সবাজার জেলার টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ও বর্জ্যের ছড়াছড়ি। দ্বীপটি রক্ষা করতে হলে প্লাস্টিক মুক্ত হওয়া জরুরি। এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
এমন উদ্যোগের কারণে প্লাস্টিককে যত্র তত্র না ফেলে যত্ন করে কুড়িয়ে নেবে দ্বীপবাসী। এসবের প্লাস্টিকের বিনিময়ে পাওয়া যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। এসব দ্রব্য কিনতে সেখানে আর টাকার প্রয়োজন হবে না। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জমা দিয়েই সেন্টমার্টিনের অধিবাসীরা ব্যাগভর্তি বাজার বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন।
মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সেন্টমার্টিনে প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোরের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
জানা গেছে, সেন্টমার্টিনের সামুদ্রিক শৈবাল ও রঙিন প্রবাল সমৃদ্ধ বিশাল সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য সবার নজর কাড়লেও প্রতিনিয়ত সমুদ্র ও দ্বীপের পরিবেশের অবনতি ঘটছে। যেখানে সেখানে এমনকি সমুদ্রের পানিতে প্লাস্টিক ফেলার কারণে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে দূষণ; হুমকির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক জীব ও মানবজীবন।
স্থানীয়দের ধারণা, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কেবল সরকারের। কিন্তু আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও সরকারের একার পক্ষে পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা। এ ছাড়া পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের মূল্য দেওয়া বা রিসাইকেল করার মতো কোনো ব্যবস্থা সেন্টমার্টিনে না থাকায় সেখানকার মানুষ প্লাস্টিককে অপ্রয়োজনীয় মনে করে ফেলে দেন।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের এই প্লাস্টিক দূষণ কমানোর জন্য একদল স্বেচ্ছাসেবী গ্রহণ করেছে একটি নতুন উদ্যোগ। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উদ্যোগের আওতায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে স্থাপন করা হবে ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’। যেখানে মানুষ তাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যের খালি পাত্র বা বোতল এক্সচেঞ্জ করে নিতে পারবেন চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। এতে স্থানীয়দের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদা যেমন পূরণ হবে, ঠিক তেমনই কমবে পরিবেশ দূষণ। এই ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’ প্রতি মাসে দুইবার করে চালু করা হবে। ফলে মানুষ তাদের জমানো প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিতে পারবেন।
এদিকে, সংগৃহীত প্লাস্টিক দিয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবীরা কক্সবাজারে তৈরি করবেন বিশাল আকৃতির একটি ‘প্লাস্টিক দানব’। ধারণা করা হচ্ছে— এই দানব হবে বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় স্ট্যাচু। এই দানব তৈরির মাধ্যমেই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন মানবসমাজকে একটি বার্তা দিতে চায় যে, প্লাস্টিকের ফলে পরিবেশ যে হারে দূষিত হচ্ছে, তা ধীরে ধীরে দানবে রূপ নিচ্ছে। আর এই দানবই পরবর্তীতে মানবসমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, প্লাস্টিকের বিনিময়ে পণ্যদ্রব্যের মেলানো অবশ্যই সেন্টমার্টিন দ্বীপকে রক্ষা করতে কার্যকরী ও সুন্দর উদ্যোগ বলে মনে করেন। এটি নিয়মিত করার দাবিও জানান তিনি।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন একটি শিক্ষা অনুকূল বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। নানা কার্যক্রমের পাশাপাশি সংস্থাটি প্রতিনিয়ত সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়ে থাকে। আর এমনই একটি উদ্যোগ হলো সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্লাস্টিকের কারণে পরিবেশ দূষণরোধ করতে ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’ স্থাপন।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোরের প্রতিনিধি আকরাম হোসেন বলেন, প্লাস্টিক জমা দিলেই বাজার করতে পারবেন দ্বীপবাসী। প্রথম দিনে লোকজন দ্বীপের নানা স্থান থেকে কুড়িয়ে কুড়িয়ে প্লাস্টিক জমা দিয়ে বাজার করছে। এ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য দ্বীপকে প্লাস্টিক থেকে বাঁচিয়ে দূষণমুক্ত রাখা। আবারও দ্বীপে মাছ দেখা যাবে। দ্বীপে জীববৈচিত্র্যে ভরপুর থাকবে।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিকের একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তার বিনিময়ে চাহিদা মতো পণ্যদ্রব্য দেওয়া হচ্ছে। এটি পাইলট হিসেবে সপ্তাহে দুইদিন খোলা থাকবে। কিন্তু দ্বীপবাসীর আগ্রহে আগামী মাস থেকে চারদিন খোলার ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে কার্যক্রমটি হাতে নেওয়া হয়েছে।




