
বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড মনে হলেও তদন্তের পর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি আত্মহত্যার আগে ফরদিন তার বন্ধুদের কাছে এ-সংক্রান্ত কিছু ইঙ্গিত দিয়ে ম্যাসেজও পাঠিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হারুন অর রশীদ।
এ সময় তিনি ফারদিনের ফেসবুক মেসেঞ্জারের কিছু বার্তা সাংবাদিকদের পড়ে শোনান।
ডিবি প্রধান বলেন, ফারদিন মৌ নামে এক বান্ধবীকে লিখেছেন ‘৩০ বছরের বেশি কারও বাঁচার দরকার নেই।’ একজনকে লিখেছেন ‘যদি মারা যাই, বন্ধু সাজ্জাদ কষ্ট পাবে।’ আরেক বন্ধুকে লিখেছেন ‘কোনো এক শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবা কেউ আত্মহত্যা করেছে।’ এমন একটি আত্মহত্যার কথা ফারদিন লিখেছিলেন এবং তিনি শুক্রবারই আত্মহত্যা করেছেন।
হারুন অর রশীদ বলেন, নিখোঁজ হওয়ার আগে ফারদিন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একা একা ঘুরে বেড়িয়েছেন। একপর্যায়ে যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনায় করে ডেমরার সুলতানা কামাল সেতুর একপাশে যান ফারদিন। কিন্তু তিনি চনপাড়ার দিকে যাননি, সেখানে কোনো ঘটনাও ঘটেনি। ঘটনার পর ৩৮ দিন তদন্ত শেষে এটিকে আমরা সুইসাইডাল ডেথ বলছি। এ বিষয়ে বুয়েটের ৪০ জন শিক্ষার্থী এসে তিন ঘণ্টা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা তার পরিবার, বন্ধু-আত্মীয়দের বলেছি, ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন।
তিনি বলেন, ফারদিন নিয়মিত বিভিন্ন উপন্যাস পড়তেন। তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নানা সময়ে জীবন নিয়ে হতাশার কথা বলেছেন।
ডিবি প্রধান হারুন আরও বলেন, ফারদিনের মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না, ধস্তাধস্তিরও আলামত নেই। তার মোবাইল-টাকা পকেটে ছিল এবং হাতে ঘড়ি ছিল। কোনোকিছু খোয়া যায়নি। বুয়েটের শিক্ষার্থীরাও এসব আলামত দেখে একমত পোষণ করেছেন।
কারাবন্দি ফারদিনের বান্ধবী বুশরার বিষয়ে ডিবি প্রধান বলেন, এটি আদালতের বিষয়, আমরা আমাদের রিপোর্টে জানিয়ে দেব, তার সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
উল্লেখ্য, ফারদিন নূর পরশ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত ৪ নভেম্বর রাতে তিনি নিখোঁজ হন। এর তিন দিন পর গত ৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। এ ঘটনায় তার বান্ধবী বুশরাসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন ফারদিনের বাবা কাজী নুরুদ্দিন।




