
নানান অনিয়মের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেড (ইউসিসিএ) ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন স্থগিতের দাবি করা হয়েছে।
রোববার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি ও সভাপতি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। দাবি না মানলে ভোট বর্জনের ঘোষণাও দেন তিনি। এ সময় সমবায় সদস্য অহিদুজ্জামান কবির, আক্তার মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একই দাবিতে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পাঁচটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল ইসলাম বলেন, লক্ষ্মীপুরে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেড (ইউসিসিএ) ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে অর্থের বিনিময়ে ভুয়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে অন্য সভাপতি প্রার্থী মামুনুর রশিদের যোগসাজশে এ অনিয়মের করেন সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বিভাগের পরিদর্শক আবু ছিদ্দিক ও আলেয়া বেগম।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক সমিতি থেকে একজন করে সদস্য হওয়ার কথা থাকলেও অর্থের বিনিময়ে একই সমিতি থেকে দুইজন করে ভোটার করা হয়েছে। তিন হাজার টাকা সঞ্চয় ও তিন হাজার টাকা শেয়ার থাকলে সমিতিকে কার্যকর দেখানো হয়। কিন্তু ২৪০ টাকা জমা দেখিয়ে নির্বাচনি এলাকার বাইরের সদস্য অবৈধভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক সদস্য বই নেই, শেয়ার খতিয়ান, সঞ্চয় খতিয়ানসহ আউট রিপোর্টে নাম না থাকা অর্ধশতাধিক লোককে ভোটার করা হয়েছে। ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় সমিতিগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে। কিন্তু সেই সমিতিগুলোকেও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাল সই করে ২৯ জনকে ভুয়া সদস্য করে ভোটার করা হয়েছে।
একটি বিশেষ মহলকে বেআইনিভাবে নির্বাচিত করতে বিআরডিবি কর্মরত পরিদর্শক আবু ছিদ্দিক ও আলেয়া বেগম টাকার বিনিময়ে এসব অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সভাপতি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম এসব অনিয়মের অভিযোগ এনে সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত সদর ইউসিসিএ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন স্থগিত করার দাবি জানান এবং পুনরায় ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচন দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জানান। অন্যথায় ভোট বর্জনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।
আরেক সভাপতি প্রার্থী মামুনুর রশিদ বলেন, গত এক মাস আগেই সমবায়দের ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। যাতে বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে তা প্রকাশ করা হয়েছে। যদি ভোটার তালিকায় কোনো অনিয়ম থাকে, তাহলে বর্তমান চেয়ারম্যানই করেছেন।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বিভাগের পরিদর্শক আলেয়া বেগম বলেন, ভোটার তালিকায় ভুল-ত্রুটি হতে পারে। তবে অনিয়মের প্রশ্নের জবাব নেই বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।




