
ভারতে ‘স্লুইস গেট’ বন্ধ থাকায় পানি নামতে না পারায় বাংলাদেশের ধান তলিয়ে গেছে। দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা একটি মাঠের কয়েক হাজার বিঘা জমির ধানের চারা এক সম্পাহের বেশী সময় পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে এলাকার কয়েকশ কৃষক।
ইতোমধ্যে স্লুইচ গেটটি খুলে দিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনীকে (বিএসএফ) চিঠি দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ভাইগড় ক্যাম্পের সদস্যরা।
শনিবার (১২ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করে বিরামপুর উপজেলা প্রশাসন দাবি করছে, খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
জানা যায়, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার হাবিবপুর মাঠ, হাকিমপুর মাঠ, শৈলান মাঠ এবং পলিখিঁয়ারমামুদপুর মাঠের বেশ কয়েক হাজার বিঘা জমির ধানের চারা পানির নিচে তলিয়ে যায়।
পানি সাধারণত পলিখিঁয়ারমামুদপুর মাঠ দিয়ে ভারতীয় অংশে প্রবেশ করে। কিন্তু বৃষ্টির শুরুর পর সিরামপুর এলাকায় ‘স্লুইস গেট’টি বন্ধ রাখে ভারত। ফলে মাঠের পানি নামতে পারেনি।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার উপজেলায় প্রায় ৯৫ শতাংশ জমিতে ১৭ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা বপন করা হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, আমারা ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি ভারতের সিরামপুর এলাকার মাঠে একটি স্লুইস গেট আছে। ওখানে মোট আটটি গেট আছে। সারা বছর ধরে খুলে রাখে। শয়তানি করে বাংলাদেশের কৃষকের জমির ধান নষ্ট করতে তারা বর্ষার সময় সব গেট বন্ধ করে দেয়। আবার তাদের তোষামোদ করলে খুলে দেয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে এলাকার চারটি মাঠের বেশকিছু কৃষকের জমির ধানের চারা পানির নিচে তলিয়ে আছে। অন্যসময় এ পানি ভারতে চলে যায়। এবার তারা কেন গেটগুলো বন্ধ রেখেছে জানিনা। তবে আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।
বিজিবি’র ভাইগড় কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার অমরেষ কুমার বালা বলেন, দুই-একদিন দেখি, যদি না খোলে সে ক্ষেত্রে বিএসএফ’র সঙ্গে বৈঠক করব।
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুজহাত তাসনীম আওন বলেন, কৃষি অফিসের তদন্তের পরপরই বিজিবিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে। তারা ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনীকে চিঠি দিয়ে অবগত করেছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি।




