
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি এতিমখানা ও মাদরাসায় শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য রান্না করা ডালের হাঁড়িতে বিষ মেশানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাঁড়ি থেকে ডাল নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা বিষের গন্ধ পেয়ে খাবার পরিহার করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মাদরাসায় উপস্থিত হন। তারা একটি কীটনাশকের খালি বোতল রান্নাঘরের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। তবে কে বা কারা বিষ মিশিয়েছেন, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
সোমবার (১১ সেপ্টম্বর) দুপুরে শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নের ধামলই গ্রামের দারুল কোরআন আদর্শ ইসলামী এতিমখানা ও মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
মাদরাসার নুরানি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন, আমি রান্নাঘরে রাখা হাঁড়ি থেকে ভাত নিয়ে ডাল নেওয়ার জন্য ঢাকনা খুলি। এরপর বিষের গন্ধ পেয়ে অন্য ছাত্রদের বিষয়টি জানাই।
হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী কিশোরগঞ্জের আব্দুল্লাহ বলেন, আমি এ সময় ঘুমিয়ে ছিলাম। সহপাঠীরা আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। এরপর রান্নাঘরে গিয়ে বিষের গন্ধ পাই। তারপর সব ছাত্র চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যে আশপাশের অনেক লোক জড়ো হতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা রান্নাঘরের দেয়ালের অন্য পাশে বিষের একটি বোতল পড়ে থাকতে দেখেন।
ওই মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করেন বুয়া জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, আমি সকাল ৮টায় রান্না শেষ করেছি। ওরা সকাল ১০টায় নাশতা করেছে এই ডাল দিয়ে। এরপর দুপুরে কে বিষ মিশিয়েছে আমি বলতে পারব না।
ওই মাদরাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, বেলা ১১টার দিকে আমি পাশের বলদীঘা বাজারে যাই। ঘণ্টাখানেক পর আমাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানানো হলে দ্রুত মাদরাসায় গিয়ে বিষ মেশানোর বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে মাদরাসার সভাপতিকে অবহিত করি।
ধামলই দারুল কোরআন আদর্শ ইসলামি এতিমখানা ও মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, আমি জরুরি কাজে বাইরে রয়েছি। বিষয়টি শোনার পরপরই স্থানীয় মেম্বারকে থানায় পাঠিয়েছি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন কুমার পণ্ডিত বলেন, ঘটনাস্থল থেকে প্লাস্টিকের মার্শাল কীটনাশকের খালি বোতল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডালের হাঁড়ি জব্দ করে নিয়ে আসা হয়েছে। ডাল রাসায়নিক পরীক্ষা করার জন্য ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




