
লালমনিরহাটে শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসেছে বাহারি পিঠার হাট। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে জনপ্রিয় পিঠার নাম ভাপা পিঠা। ভাপা ছাড়া চিতই, পুলি, তেল এবং পাটিসাপ্টা পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে গোটা লালমনিরহাটের অলিগলিতে।
প্রতিদিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভাপাসহ হরেক রকম পিঠার হাট বসে লালমনিরহাটের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়। প্রতিটি পিঠার মূল্য ১০ থেকে প্রকারভেদে ২৫ টাকা পর্যন্ত। নবান্নের এই নতুন ধানের পিঠা খেতে বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ দোকানের চারদিকে অপেক্ষমাণ থাকেন। দোকানদাররাও দারুণ ব্যস্ত সময় পার করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লালমনিরহাট শহরের মিশনমোড় এলাকার স্টেশন রোডে বসেছে অনেকগুলো ভাপা পিঠার দোকান। আব্দুর রহিম, মফিজ উদ্দিন অলিমা খাতুনসহ বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভাপা পিঠার দোকান বসিয়ে বিক্রি করছেন। আমন ধানের ভাপা পিঠা খেতে পিঠার দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। নিজে খাওয়ার পর আবার কেউ কেউ নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের সদস্যদের জন্য।
ভাপা পিঠা বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম (৩৮), অলিমা খাতুন বলেন, দুই সপ্তাহ যাবৎ ভাপা পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছি। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্রিয় হচ্ছে। প্রতিদিন ২ থেকে ৫ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করছি। শীতের তীব্রতা বাড়লে প্রতিদিন ৬ থেকে ১০ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হবে। সেই অপেক্ষায় রয়েছি।
এদিকে লালমনিরহাট শহরের পুরোনো বাস টার্মিনালের মরিয়ম বেগম (২৮) ভাপা পিঠা বিক্রি করছেন। শীত আসলেই মরিয়ম ভাপা পিঠা বিক্রি করে যে আয় করেন তা দিয়ে সারা বছর সংসার চালান। স্বামী ৫ বছর আগে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকে একমাত্র সন্তান আদিলকে নিয়ে শীতের ৩ মাস পিঠার ব্যবসা করেন।
লালমনিরহাট শহরের স্টেশন এলাকার ভাপা পিঠা বিক্রেতা কুলসুম বেগম বলেন, আমার স্বামী-সন্তান পৃথিবীতে কেউ নেই। তাই সংসার চালাতে নিজেই কাজ করছি। প্রতিদিন ১০ কেজি চালের আটা দিয়ে ভাপা পিঠা তৈরি করি। এতে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। তা দিয়েই সংসার চালাই।

আদিতমারী উপজেলার কলেজ বাজার এলাকার বাসিন্দা মনছুর মিয়া বলেন, বর্তমানে নতুন ধান দিয়ে গ্রামগঞ্জে শুরু হয়েছে পিঠাপুলি খাওয়ার ধুম। বাজারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পিঠা বিক্রি হচ্ছে।
পিঠে খেতে আসা গোলাপি বেগম, এরশাদুল হক, সাদিয়া আফরিন, শামিমা নাসরিন, কমল চন্দ্র রায়সহ অনেকের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা বলেন, নতুন ধানের ভাপা পিঠা খেয়ে অনেক ভালো লাগছে। ধানের পিঠার আগাম স্বাদ পেলাম।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জগদীশ চন্দ্র রায় বলেন, আমি প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর এসব দোকান থেকে পিঠা খাই। আগে যদিও বাড়িতে এসব পিঠা বানানোর হিড়িক পড়তো এখন তা আর দেখা যায় না।




