
চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় ডেকে নিয়ে ‘মানসিক নির্যাতনের’ পর মিনহাজুল ইসলাম রাফি (২০) নামে এক তরুণ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর লালখানবাজার টাংকির পাহাড় এলাকায় নিজবাসা থেকে ওই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মিনহাজুল ইসলাম রাফি টাংকির পাহাড় এলাকার মো. মামুনের ছেলে। তার বাবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক।
এ বিষয়ে খুলশী থানার উপপরিদর্শক জামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, বাসার ছাদের সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় মাফলার পেঁচানো ঝোলানো অবস্থায় ওই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে রাতেই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে ঝামেলার কারণে ওই তরুণ আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি রাফির বিরুদ্ধে নগরীর ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার এক তরুণী কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে অভিযোগ করা হয়, রাফির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়ে তারা একসঙ্গে কিছু ছবি তোলেন। তরুণীর মা-বাবা বিষয়টি জানার পর তারা রাফির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে নিষেধ করেন।
তরুণী রাফির সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার কথা বলে তাকে ছবিগুলো মোবাইল থেকে মুছে দিতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাফি ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এছাড়া তরুণীর বাবাকে ফোন করে তার পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দেন।
রাফির মা রানু বেগম গণমাধ্যমকে জানান, তরুণীর অভিযোগের পর বুধবার কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরমান হোসেন ছেলেকে নিয়ে মা-বাবাকে থানায় যেতে বলেন। সন্ধ্যায় তারা থানায় যান। বেশ কিছুক্ষণ কক্ষে বসিয়ে রাখার পর রাফির মোবাইল নিয়ে নেন এবং তিনজনকে অপমানসূচক বিভিন্ন কথাবার্তা বলেন।
আমি আর রাফির বাবা ওনার পা ধরে আধাঘণ্টা বসেছিলাম। তিনি দুই লাখ টাকা দাবি করেন। নয়তো ছেলেকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেওয়া হবে বলে জানান। আমাদের কাছে ৫ হাজার টাকা আছে জানালে উনি ওনার কক্ষের বাথরুমে রেখে আসতে বলেন। সেখানে টাকা রেখে আসার পর আমাদের ছেড়ে দেন। বাকি টাকা ২৪ তারিখের মধ্যে দিতে বলেন।
রাফির খালাতো ভগ্নিপতি মো. কালাম বলেন, রাফির বাবা-মা থানা থেকে আমার বাসায় আসেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে খবর আসে, রাফি তার বাসায় আত্মহত্যা করেছে। থানায় মা-বাবা ও তাকে যেভাবে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে, এ অপমানে আত্মহত্যা করেছে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরমান হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ৯ ডিসেম্বর এক তরুণী রাফির বিরুদ্ধে জিডি করেছেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে জিডিটি তদন্তের জন্য রাফিকে ডেকে আনা হয়। অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য তার মোবাইলটি জব্দ করেছি। তার মা-বাবা অনেক অনুনয়-বিনয়, কান্নাকাটি করেছে। আমি বলছি আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে কি হবে। আপনার ছেলেতো পুলিশের কাছে দোষ করেনি। ক্ষমা চাইলে ছেলের মা-বাবার কাছে চান। এতটুকু।
দুই লাখ টাকা দাবি ও পাঁচ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মিথ্যা কথা। এটা হয় নাকি।




