
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তরুণ-তরুণী যুগলকে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাদের বিবস্ত্র করে ভিডিও করেছে কয়েকজন যুবক।
সম্প্রতি ৩ মিনিট ৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটি উপজেলার গৌরীপুর এলাকার বলে নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি থানার ওসি মোজাম্মেল হক।
ওসি মোজাম্মেল বলেন, প্রাথমিক তদন্তের পর জানতে পেরেছি, ভাইরাল ভিডিওটি গত বছরের মার্চ মাসের, গৌরীপুর এলাকার। দুদিন আগে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আমাদের নজরে আসে। তবে প্রাথমিকভাবে তেমন কিছু জানা যায়নি। ভিকটিমদের খুঁজে পেলে ঘটনার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি বলেন, ভিডিওটি যখনই করা হোক না কেন, এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা ভিকটিমদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছি।
ভিডিওটি ‘বিশ্লেষণ’ করে পুলিশের ধারণা হয়েছে, ভুক্তভোগীরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই কক্ষে ভাড়া থাকতেন। নির্যাতনকারীরা তাদের প্রেমিক-প্রেমিকা সন্দেহ করে আটক করে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
এদিকে ওই ভিডিও এর শুরুতে একটি ঘরের মধ্যে এক ব্যক্তি ও এক নারীর সঙ্গে কয়েকজনকে ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায়। ধস্তাধস্তির চলার মধ্যেই লাল টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি ওই নারীকে আগলে রাখার চেষ্টা করছিলেন। এর পরপরই ওই নারীকে মেঝেতে পাতা বিছানায় ফেলে কয়েকজন ঘিরে রাখেন। তারপর লাল টি-শার্ট পরা ব্যক্তিকে এবং এর কিছুক্ষণ পর ওই নারীকেও বিবস্ত্র করা হয়।
ঘটনার প্রসঙ্গে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আব্দুল মান্নান জানান, এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িতদের আমরা ‘প্রায় শনাক্ত’ করতে পেরেছি। তবে ভিকটিমদের পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, ভিকটিম ছেলেটি বর্তমানে দেশের বাইরে থাকেন। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। ভুক্তভোগীরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী কিনা, সেটাও জানা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ দেখা হচ্ছে জানিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, একাধিক টিম এটা নিয়ে কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের ধরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




