
ফরিদপুর-৩ আসনের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে নৌকার কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নৌকার পক্ষে কাজ করা ৬ কর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ২ জনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ফরিদপুর সদর আসনের নৌকার প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শামীম হক জানান, বিভিন্ন সময়ে তার সমর্থকদের ওপর হামলা করে আসছে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের কর্মীরা। তারই ধারাবাহিকতায় ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে আমার কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এতে ৬/৭ জন আহত হয়েছেন। দুইজনের অবস্থা গুরুতর। তারা মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন।
তিনি এ সময় আরও বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ সাহেব তো নির্বাচন করতে আসেন নাই, বিএনপির এজেন্ডা নির্বাচন বানচাল করতে আসছেন। সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
নৌকার কর্মী মো. শরিফুল ইসলাম জানান, তাদের কর্মীরা পোস্টার লাগাচ্ছিল ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে। রাত ৯টার দিকে একটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলযোগে কিছু লোক আসে। এ সময় আমাদের কর্মীরা নৌকার পোস্টার লাগাচ্ছিল। ওই মাইক্রো ও মোটরসাইকেল থেকে লোকজন নেমে নৌকার কর্মীদের মারধর করেন। দৌড়ে অনেকে পালিয়ে যায়, ৬ জনের মতো আহত হয়েছেন। এরমধ্যে কামরুল মোল্যা ও সেলিম শেখের অবস্থা গুরুতর। তাদের প্রথমে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অহিমুল ইসলাম ফাহিম জানান, দুই জন রোগী এসেছিল, তাদের অবস্থা গুরুতর। একজনের মাথায় আঘাত রয়েছে, অপরজনের শরীরে একাধিক স্থানে আঘাত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের নির্বাচনী সমন্বয়কারী মো. শোয়েবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এটা পুরোপুরি একটা সাজানো নাটক। গত কয়েক দিন ধরে ওই ইউনিয়নে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, এই বিষয়ে থানায় অভিযোগও দেওয়া আছে। সেই সব ঘটনাকে আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলার নাটক সাজিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে নৌকার প্রার্থী।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি (অপারেশন) মো. আবদুল গাফফার জানান, খবর পাওয়া মাত্রই হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




