
এখনকার সমাজে নারীরা আর অবহেলিত না। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে নারীরা কাজ করে যাচ্ছেন। দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা হাকিমপুরের বোয়ালদাড় ইউনিয়নে পুরুষের ফুটবল খেলায় রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাহফুজা রাহাত নামের একজন নারী এবং লাইন্সম্যান ছিলেন আরও দুজন নারী।
খেলা দেখতে শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর গড়াতেই গ্রামের মাঠকে ঘিরে নানা বয়সী হাজারও নারী-পুরুষ ভিড় করেন।
এ সময় নারী রেফারির খেলা পরিচালনা দেখতে এই ভিড় বলে জানান উৎসুক জনতা।
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে। মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান ফিজুর স্বরণে গরু-খাসি দিয়ে ফুটবল খেলার আয়োজন করেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী মুশফিকুর রহমান। গ্রামের ছেলেদের মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং ফুটবল খেলাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর এমন আয়োজন করেন তিনি।

এবারের আয়োজন ছিল একটু ভিন্ন রকম। পুরুষের ফুটবল খেলায় রেফারি হিসেবে ছিলেন নারী মাহফুজা রাহাত এবং লাইন্সম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন তানিয়া ও সনিয়া। নারী রেফারি ও লাইন্সম্যানকে ঘিরে বোয়ালদাড় ছাড়াও আশপাশের অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষের মধ্যে ছিলো ব্যাপক উৎসাহ। খেলা শুরুর আগে থেকেই মাঠে উপস্থিত হতে থাকে বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ। খেলা উপলক্ষে মাঠের আশেপাশে বসেছিল হরেক রকমের দোকান। খেলা চলাকালে আগত দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
খেলা দেখতে আসা রহিমা খাতুন, মনোয়ার হোসেন বলেন, শীতের সময় তেমন কোনো কাজ নেই। যার জন্য খেলা দেখতে এসেছি। আমরা আগে দেখেছি যে, ছেলেদের খেলাতে ছেলেরা রেফারি করে। আজ দেখলাম ছেলেদের খেলাতে মেয়ে মানুষ রেফারি করছে। অনেক মানুষ এসেছে। খেলা দেখে খুব আনন্দ পেলাম আমরা।
সিঙ্গাপুর প্রবাসী খেলার আয়োজক মুশফিকুর রহমান বলেন, মাদকসহ সকল অপরাধ থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খেলার আয়োজন করে থাকি। মাঠের চারপাশে হাজার হাজার দর্শক। মানুষকে আনন্দ দিতে পারলে নিজেকেও অনেক ভালো লাগে। মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান ফিজুর স্মরণে আমার নিজের উদ্যোগে খেলার আয়োজন করেছি। প্রতি বছর এমন আয়োজন করব। মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান ফিজুর স্মরণে এই টুর্নামেন্টে মোট ৮টি দল অংশগ্রহণ করবেন। প্রথম দিনে হাকিমপুর একাদশকে ১ গোলে পরাজিত করে দাউদপুর একাদশ।
দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর মন দুটোই ভালো থাকে। গ্রাম অঞ্চলে ফুটবলসহ নানা রকম খেলা ছড়িয়ে দিতে আমরা সব ধরনের চেষ্টা করব। আমার বাবার স্মরণে এই ফুটবল খেলা হচ্ছে। আয়োজককে অনেক অনেক ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে ছেলে-মেয়েদের খেলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য যা যা করা দরকার সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান করেন তিনি।




