ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

‘থার্টি ফার্স্ট নাইটে’ আয়োজন নেই, তবু বাড়ছে কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড়

কক্সবাজার প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:২৬ পিএম
ছবি : আরটিভি

বছরের শেষ রাত বা ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপনে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে এবার কোনো আয়োজন নেই। এরপরও পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছর বরণে ভিড় বেড়েছে পর্যটকের। গেল বুধবার থেকে বছরের শেষ ৫ দিনে অন্তত চার লাখ পর্যটক সমাগমের আশা করছেন হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকেরা।

কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন, গত বছরে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে বছরের শেষ সাত দিনে প্রায় পাঁচ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটেছিল। এবার সৈকতসহ হোটেল-মোটেলে নতুন বছরকে বরণের কোনো উৎসবের আয়োজন হয়নি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনেও প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবু গতবারের তুলনায় কিছুটা কম হলেও ব্যাপক পর্যটক সমাগমের আশা করা হচ্ছে। পর্যটকদের মাঝে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই।

সেলিম নেওয়াজ আরও বলেন, পর্যটক টানতে সৈকত ও শহর এলাকার পাঁচ শতাধিক হোটেল-গেস্টহাউস-রিসোর্ট ও কটেজে রুম ভাড়ার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ছাড় দেয়া হচ্ছে। কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলের প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং হয়েছে।

হোটেল মালিকেরা জানান, গত ২৮ অক্টোবর থেকে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির কারণে টানা ৪৮ দিন সৈকতে তেমন পর্যটক ছিল না। এ কারণে শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের অধিকাংশ কক্ষ খালি পড়ে ছিল। বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৪ ডিসেম্বর থেকে পাঁচ দিনের ছুটিতে ব্যবসা কিছুটা চাঙা হলেও পরে আবার পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে সৈকত পাড়ে। পাঁচ দিনের ছুটিতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে।

রোববার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা যায়, সৈকতে পর্যটকের ভিড়। বেশির ভাগ নারী-পুরুষ সমুদ্রের পানিতে নেমে গোসলে ব্যস্ত। কিছু পর্যটক বালুচরে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে ছবি তুলছেন। পর্যটকদের ছবি তুলে দিতে ব্যস্ত তিন শতাধিক পেশাদার আলোকচিত্রী। পর্যটকদের কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দ উল্লাসে মেতে রয়েছেন। কেউ দ্রুতগতির জলযান জেটি স্কিতে চড়ে ঘোরাঘুরি করছেন। ঘোড়া ও বীচ বাইক নিয়েও ছুটতে দেখা যায় কয়েকজনকে।

বেসরকারি ‘সি সেফ’ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকতের পাঁচ কিলোমিটারে দুপুরে পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে।

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সৈকতে গোসলে নামেন ঢাকার কলাবাগানের ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম। শনিবার রাতে ট্রেনে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে রবিবার সকালে কক্সবাজারে পৌঁছান। তিনি বলেন, কক্সবাজার পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঘুরে সন্ধ্যায় সৈকতে ফিরে ২০২৩ সালের শেষ সূর্যাস্ত দেখবেন। এরপরে তারা ফিরে যাবেন।

তবে কিছু কিছু ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারের থার্টিফার্স্ট নাইট পড়ে রোববার। সরকারি ছুটি নেই, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের কড়াকড়ি, আবার আউডডোর-ইনডোর কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন না থাকায় এবার পর্যটকদের সাড়া নেই এমনটাই বলছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

শহরের পাঁচ তারকা হোটেল কক্সটুডের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আবু তালেব শাহ বলেন, নানা কারণে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। অন্যান্য বছর রুমের জন্য হাহাকার তৈরি হলেও এবার থার্টিফার্স্ট উপলক্ষে ৪৫ ভাগ বুকিং আছে মাত্র।

নির্বাচনের কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো বুকিং নেই।

থার্টিফার্স্ট নাইটে কক্সবাজার সৈকতসহ উন্মুক্ত স্থানে কনসার্ট বা অনুষ্ঠানের আয়োজন বন্ধ রাখার কথা জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার আগে উন্মুক্ত স্থানের সব আয়োজন শেষ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে হোটেল-মোটেলের ইনডোর আয়োজনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এই সময়ের পর আতশবাজি, পটকা ফাটানো যাবে না। এমনকি হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন স্থানের বারও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারে পর্যটক বাড়তে থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে চাঙা ভাব ফিরে এসেছে। বছরের শেষ দিন পর্যন্ত শতকোটি টাকার ব্যবসা হবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে রুম ভাড়া ও খাবারের দামে বাড়তি টাকা যাতে কেউ নিতে না পারে, তা দেখভাল করতে একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছেন। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট অভিযোগকেন্দ্র খোলা হয়েছে। হয়রানির শিকার পর্যটকেরা সেখানে অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ভ্রমণে এসে কোনো পর্যটক যেনো হয়রানির শিকার না হন, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারে পর্যটকদের আবাসনের জন্য রয়েছে ৩৮০টি হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ ও কটেজ। যেখানে প্রায় দেড় এক লাখ পর্যটকের রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শেরপুরে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, হামলার অভিযোগ 
শেরপুর-১ (সদর) আসনের ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন ছানু অভিযোগ করে বলেছেন, শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নৌকার প্রার্থী হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক তার নিশ্চিত পরাজয় জেনে আমার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার করছেন।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে শেরপুর টাউনের নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক মত বিনিময় সভায় ট্রাক মার্কার প্রার্থী এসব কথা বলেন।  তিনি বলেন, প্রকাশ্যে আমাকে ও আমার কর্মীদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আমার কর্মীদের হামলা করে অন্তত ১০ জনকে আহত করেছেন। আমার কর্মীদের মোটর সাইকেল ভাঙচুর, ট্রাক মার্কার নির্বাচনী কেন্দ্র করতে বাধা দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তিনি সদর উপজেলার চিহ্নিত কামারিয়া, রৌহা, বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ও ধলা ইউনিয়নে সিল মারাসহ নির্বাচন ভন্ডুল করার ষড়যন্ত্র করছেন। ওইসব এলাকায় আমার কর্মীরা নীরাপত্তহীনতায় আতংকের মধ্যে রয়েছেন। নৌকার প্রার্থী বৈধ-অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে ট্রাকের কর্মীদের হুমকি দিয়ে ভীতি প্রদর্শন করছেন।  তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অবৈধ টাকা, কম্বল, শাড়ী, লুঙ্গীসহ উপঢৌকন দিয়ে ভোট কেনার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। নৌকার প্রার্থীর মেয়ে একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়েও নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার অধীনস্থ কর্মচারীদের দিয়ে উঠান বৈঠকের নামে নির্বাচনী প্রচারনা চালাচ্ছে। কেউ প্রচারনা না করলে তাকে বদলীসহ নানা শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।  ছানোয়ার হোসেন বলেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র তারা নিজস্ব গাড়ীতে চলাচল করছেন, তারা সরকারী গাড়ী ব্যবহার করছেন না। অথচ আতিক সাহেব তার গানম্যানের অস্ত্র দেখিয়ে ভীতির সঞ্চার করে যাচ্ছেন।  তিনি আরও বলেন, আমরা সুনামের সাথে ব্যবসা করি। যে কারণে শেরপুরের ১৫টি ব্যবসায়ী সংগঠন আমাকে সমর্থন দিয়েছে। তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন করতে চাই। আর হুইপ সাহেবের বিশেষ বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কামারিয়া, রৌহা, বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ও ধলা ইউনিয়নে নিরপেক্ষ ভোট চাই। সদর আসনের ভোটাররা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে অবাধে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করেন।  এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, শেরপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর রুমান, শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, শেরপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা আলহাজ্ব মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, শেরপুর জেলা জাসদ সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুন্নাহার কামাল, জেলা যুবলীগ সভাপতি আলহাজ্ব মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফারহানা পারভীন মুন্নীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মত বিনিময় সভায় ছানু সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনসহ সত্য, সঠিক সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সময় তিনি প্রতিবারের ন্যায় যেন এবারো বিশেষ চারটি ইউনিয়নে সীল না মারতে পারে সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ করেন।
শেরপুরে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, হামলার অভিযোগ 
কুড়িগ্রাম-২  / আ.লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে হবে জাপার লড়াই
কুড়িগ্রাম-২ আসনটি কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত। আর এ আসনে এবার ভোটের লড়াই হবে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীকের বীরমুক্তিযোদ্ধা ডা. হামিদুল হক খন্দকারের সঙ্গে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদের।এ আসনে আ.লীগের প্রার্থী ও সাবেক এমপি মো. জাফর আলী নৌকার প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও বাংলাদেশ আ.লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরিক দল হিসেবে জাপাকে শেষ পর্যন্ত আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে এ আসনে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এমন একজন প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. হামিদুল হক খন্দকার। তিনি আ. লীগের প্রার্থী হলেও মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ট্রাক প্রতীকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর এ প্রার্থীর সাথে দলীয় অনেক নেতা কর্মীও প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে একসাথে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ার তুলে ধরছেন। বিগত দিনে এলাকায় যে উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে তা ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। তাকে নতুন একজন প্রার্থী হিসেবে ভোটাররাও আনন্দের সাথে সাড়া দিচ্ছেন বলে ভোটাররা জানান। ভোটারদের মতে, এ আসনটিতে এবার ট্রাক ও লাঙলের হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। স্বতন্ত্র প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক খন্দকার তার নিজ এলাকা ফুলবাড়ী উপজেলাসহ সদর উপজেলা ও রাজারহাটে চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচার প্রচারণা। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, কুড়িগ্রাম-২ আসনটি উন্নয়নের জন্য আ. লীগ সরকার অনেক কিছু করলেও জাপার প্রার্থী বারবার এমপি হওয়ায় তা কাঙ্খিত সফলতা হয়নি। তাই সকল ভোটার এবার নতুন মুখ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা ডা. হামিদুল হক খন্দকারকে বেছে নেবেন বলে জানান। এজন্য তার পক্ষে জেলার অনেক নেতাকর্মী সরাসরি গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন। ট্রাক প্রতীকে প্রার্থীসহ উঠোন বৈঠক ও বিভিন্ন মিটিং মিছিলে অংশ নিচ্ছেন তারা। এছাড়াও ভোট চাওয়ার পাশাপাশি মাইকিং, পোষ্টার লাগানো, লিফলেট বিতরণ ও পথসভায় অংশগ্রহণেও চলছে দুই প্রার্থীরগণসংযোগ।  অপরদিকে, জাপার প্রার্থী লাঙল প্রতীকের পনির উদ্দিন আহমেদও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দলটিতে সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকায় তার কর্মী সমর্থক মাঠে কম দেখা যায়। তবে ভোটারদের মধ্যে অনেকেই এ আসনটি লাঙলের ঘাটি বলে এবারেও লাঙল জয়ী হবে বলে আশা অনেকের। লাঙলের প্রার্থীর সঙ্গে আ. লীগের একাংশ যুক্ত হয়ে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন বলেও দাবি প্রার্থীর। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লাঙলের প্রার্থী এরুপ দাবি করেন। কুড়িগ্রামে ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে কুড়িগ্রাম-২ আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৭জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. হামিদুল হক খন্দকার ও লাঙলের প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদের মধ্যেই হবে মূল ভোটের লড়াই। এছাড়াও রয়েছেন আরও দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৫ জন। 
আ.লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে হবে জাপার লড়াই
লক্ষ্মীপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও এসপিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হুমকি
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান পবনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লক্ষীপুর জেলা প্রশাসক নির্বাচন কমিশন বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ করেছেন। ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র এ প্রার্থী বাংলাদেশ যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান নির্বাচন কমিশন (ইসি) বরাবর স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ করেন বলে জানা যায়। জেলা প্রশাসক সুপারিশ পত্রে বলা হয়, নির্বাচন কার্যক্রম শুরু থেকে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান পবনের আচরণের বিষয়ে সময়ে সময়ে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়। কিন্তু এ স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারকে হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি প্রদানের ঘটনায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে তাদের মধ্যে ভয়-ভীতি ও শঙ্কা কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ পত্রে বলা হয়, ১৯৭২-এর ৮৪ (ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে লক্ষ্মীপুর-১ সংসদীয় আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পবন (প্রতীক-ঈগল) অপরাধ করেছেন। তার অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখাসহ মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনের দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের মনোবল অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। লক্ষ্মীপুর-১ আসনের নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ইসি বরাবর জানিয়ে জেলা প্রশাসক পক্ষ থেকে বলা হয়, চলমান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, র‍্যাব, আনসার, কোস্টগার্ডসহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সবার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও জেলার আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। প্রার্থীদের সহাবস্থান নিশ্চিতে নির্বাচনী এলাকায় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ টহল চলমান রয়েছে। জানা যায়, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পবন শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাতটা ২২ মিনিটে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহানকে হোয়াটসএ্যাপে ফোন করেন। এ সময় তিনি ফোন কলে নির্বাচনী বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আলোচনার উচ্চবাচ্য শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অকথ্য ভাষায় আপত্তিকর বক্তব্য দেন। ইসি বরাবর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী তার বক্তব্যে রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ সুপারকে তিন দিনের মধ্যে বদলিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মন্তব্য করেন ও হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনার সব কথা রেকর্ড হচ্ছে। আমি বুঝে গেছি আপনারা থাকলে আমি নির্বাচন করতে পারব না। আপনি যা যা বলেছেন কিছুই করেননি। আমি (স্বতন্ত্র প্রার্থী) আপনাকে (২৮ ডিসেম্বর) ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। দৃশ্যমান কিছুই করেন নাই, কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। কোনো অভিযোগ দিলে আপনি পাঠান এসপির কাছে, এসপি পাঠায় আপনার কাছে। এসপি আমাকে আইন দেখায়। আপনি আর এসপি এখানে কীভাবে কাজ করেন তা আমি দেখে নিব। আপনি আর এসপি আগামী তিন দিনের মধ্যে এর ফলাফল জানতে পারবেন। আপনারা জানেন না আমি কোথায় যেতে পারি। আগামীকাল নির্বাচন কমিশনে যাবো, আপনারা কীভাবে এখানে থাকেন তা আমি দেখবো।’ প্রায় ৪ মিনিট বক্তব্য প্রদানকালে জেলা প্রাশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিভিন্ন হুমকি দেন বলে ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।  
লক্ষ্মীপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও এসপিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হুমকি
সিরাজগঞ্জে বিএনপির ৫ নেতা বহিষ্কার 
স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ সিরাজগঞ্জে বিএনপির পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্র।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।  বিএনপির বহিষ্কৃত নেতারা হলেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল, এনায়েতপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম মাস্টার, চৌহালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সহসভাপতি বাবুল সরকার ও সদস্য ইউনুছ শিকদার। জেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বহিষ্কৃত বিএনপি নেতারা সিরাজগ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) স্বতন্ত্রপ্রার্থী মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে নির্বাচনি প্রচরণায় অংশ নিয়েছিলেন এমন অভিযোগ করা হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে। এ কারণে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।  তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক আমীরুল ইসলাম আলীম ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের বহিষ্কার করেছেন। গত শুক্রবার আমার নেতৃত্বে বেলকুচিতে লিফলেট বিতরণ করা হয়। বরং আলীমকে ২৮ ডিসেম্বর পর থেকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি এই এলাকায় বিএনপিকে ধংসের পাঁয়তারা করছেন। দলের কোনো নেতাকর্মী তার সঙ্গে নেই। যারা আন্দোলনে মাঠে রয়েছে তাদের বহিষ্কার করতে আলীম উঠেপড়ে লেগেছেন।  সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, বিএনপির পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করার বিষয় ফেসবুকে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে অবগত হয়েছি।  
সিরাজগঞ্জে বিএনপির ৫ নেতা বহিষ্কার 
নৌকার সাচ্চা কর্মীরা বাইরে ভোট দেয় না : শিল্পমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের যারা সাচ্চা কর্মী তারা নৌকার বাইরে ভোট দেয় না এবং দেবেও না বলে মন্তব্য করেছেন নরসিংদী-৪ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন আমাদের অগ্নিপরীক্ষা। আমাদের কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে নির্বাচন ও আন্দোলনের জন্য। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চালাকচর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা ঘাপটি মেরে বসে থাকলেও আজকে তাদের স্বরূপ উন্মোচন হয়েছে। আওয়ামী লীগের যারা সাচ্চা কর্মী তারা নৌকার বাইরে ভোট দেয় না, দেবেও না। তারা বিক্রি হয় না, টাকা দিয়ে তাদের আদর্শ কিনতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী এ নির্বাচনকে অর্থবহ ও উৎসব মুখর করার জন্য কাজ করছেন।    তিনি বলেন, যারা আমাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন, শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন আমরা বাংলাদেশে কোনো দিন পরাজিত হব না। এ উন্নয়নের গতি ধারা, শান্তি অবস্থা বজায় রাখতে সবাই নৌকায় ভোট দেবেন।   তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বিশাল সংগঠন। বারবার এর ওপর হামলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, নেতাকর্মীদের নির্যাতন করা হয়েছে। তারপরও আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আওয়ামী লীগ কখনো আদর্শ বিচ্যুত হয়নি, নেতারা বিভ্রান্ত হলেও কর্মীরা হয়নি, তারা পথে ভুল করলেও কর্মীরা করেনি। এজন্য শেখ হাসিনা মানুষের ভালোবাসায় বারবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, কেউ দয়া করে দেয়নি। তিনি সেই  ভালোবাসা ধরে রাখতে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। তাই দেশে উন্নয়নের মার্কা নৌকার জোয়ার বইছে। এ সময় মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মু. ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াশীষ রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী, মনোহরদী পৌর মেয়র আমিনুর রশিদ সুজন, চালাকচর ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল মান্নান মুক্তু, বড়চাপা ইউপি চেয়ারম্যান এম সুলতান উদ্দিন, চরমান্দালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিছ উদ্দিন শাহীনসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  
নৌকার সাচ্চা কর্মীরা বাইরে ভোট দেয় না : শিল্পমন্ত্রী
আরও পড়ুন
টেকনাফে অস্ত্রসহ দম্পতি গ্রেপ্তার
আরসার লজিস্টিক শাখার প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৩
থার্টি ফার্স্ট নাইট সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
ইনানী-সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু