ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ওরা আমার কুড়িয়ে পাওয়া সোনা মানিকের বুক ঝাঁঝরা করে দিছে’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৩৪ পিএম
ছবি: বাসস

কিশোর সিয়াম তার জন্মদাতা বাবা-মার চেহারা মনে রেখেছিলেন কি না তা কেউ জানে না। কিন্তু পালক বাবা-মায়ের আদর ভালোবাসায় এই নশ্বর পৃথিবীতে বেড়ে উঠছিলেন তিনি। সেই সিয়াম আর নেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অপরাজনীতি ও ক্ষমতার নীল বিষে হারিয়ে গেছে সিয়ামের কচি প্রাণ। খেটে খাওয়া নিম্ন আায়ের পরিবার বলেই হয়তো সিয়ামের প্রাণের মূল্য হয়ে ওঠেনি দুর্মূল্য। কারও নজরে নেই তার পালক বাবা-মা ও ভাই-বোনদের।

বগুড়া শহরের সেউজগাড়ীর আমতলা মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই শুক্রবার বিকেলে পুলিশ এবং আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিতে প্রাণ হারায় সিয়াম শুভ (১৬)। সে পাশের হাড্ডিপট্টি এলাকায় তার পালক বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতো।

সাত বছর আগে সিয়ামকে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনে কুড়িয়ে পান তার বর্তমান মা হাড্ডিপট্টি বস্তির বাসিন্দা শাপলা বেগম (৫১)। সে সময় তার বয়স ছিল নয় বছর। পরে বাড়িতে নিয়ে আশিক-শাপলা দম্পতি সিয়ামকে লালনপালন করেন। কখনও ভাঙারির দোকানে কাজ করতো সিয়াম। কখনওবা বাবার সঙ্গে বাসে হেলপারি করতো সংসারে বাড়তি আয়ের জন্য।

সিয়ামের পরিবার ও প্রতক্ষ্যদর্শীদের কাছে জানা যায়, ১৯ জুলাই বিকেল ৩টার পর কাজ শেষে নানার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিতে যায় সিয়াম। বিকেল ৪টার দিকে বগুড়া সেউজগাড়ী আমতলা মোড়ে আন্দোলনকারীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। বিকেল ৫টার পরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ সেখানে জলকামান দিয়ে গরম পানি ছিটিয়ে আন্দোলনকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

একপর্যায়ে পুলিশ আর্মড পারসোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি) থেকে নেমে শর্টগান থেকে অসংখ্য গুলি শুরু করে। গোলাগুলিতে দৌড়ে সেখান থেকে সরে যাওয়ার সময় জলকামানের পানিতে পা পিছলে রাস্তায় পড়ে যায় সিয়াম। রাস্তা থেকে ওঠার সময় তার সারা শরীরে পুলিশের ছররা গুলি লাগে বলে জানায় তার সঙ্গে আন্দোলনে থাকা একাধিক শিক্ষার্থী। পরে তাকে কাছেই অবস্থিত বগুড়া নার্সিং হোমে নেওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ দেখে তাকে পাঠানো হয় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. সালেহ জানান, সিয়ামের সারা শরীরে ছররা গুলি ঢুকে যাওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

হাড্ডিপট্টি বাসস্ট্যান্ডের নৈশ্যপ্রহরী ফারুক হোসেন বলেন, শনিবার সিয়ামের মরদেহ আমরাই গোসল করাই। তখন তার শরীরে অসংখ্য গুলির আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। যখন আমরা এখানে গোসল করিয়ে দিচ্ছিলাম, তখনও পুলিশ এসে এখানে গুলি করে যায়। মরদেহ রেখে কিছু সময়ের জন্য আমাদের দৌড়াতে হয়েছিল।

ফারুক আরও জানান, অনেক রিস্ক নিয়ে পুলিশের ভয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে মাত্র কয়েকজন মিলে বগুড়ার কেন্দ্রীয় কবরস্থান নামাজগড়ে দাফন করা হয় সিয়ামকে।

সিয়ামের পালক বাবা-মায়ের খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, শাপলা নিজের ঘরে শুয়ে আছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় ঠিকমতো চলতে পারেন না তিনি। এদিকে ছেলে হারানোর শোকেও কাতর হয়ে আছেন। শোক কাটাতে পারছেন না কোনমতেই।

শাপলা খাতুন বলেন, পেটের ছোল হলেই নিজের ছোল হয় না, ভাই। অনেক সময় কুঁড়ে পাওয়া ছোল পেটের ছোলের চেয়ে আপন হয়। সিয়াম আমার তেমন ছোল। আমরা ওকে পড়ালেখা করাতে চাইছিলাম। কিন্তু ও নিজেই আর পড়ল না। ছোট থেকেই টাকা কামাই করে এনে আমাকে দিত। বলতো আম্মু আমি থাকতে তোমার কোনো কষ্ট হবে না। সেই ছোলটাক গুলি করে মারলো। আমার কুড়ে পাওয়া সোনা মানিকের বুক ঝাঁঝরা করে দিছে।

সিয়ামের পালিত বাবা মো. আশিক (৫৭) জানান, তার বাবা-মা কি করতো সেটা আমরা জানি না। যখন সিয়ামকে কুড়িয়ে পাই তখন ওর বয়স ছিলো নয় বছর। সে আমাদের যেটুকু বলেছে সেটাই জানি। সে আমাদের বাড়িতেই ছিল। ছোট বেলায় অল্প কিছুদিন লেখাপড়া করেছে। পরে বড় হওয়ার পর আর লেখাপড়া করেনি। আমাদের আর দুই ছেলে দুই মেয়ে রয়েছে। তারা লেখাপড়া করে।

গত ১৯ জুলাই সিয়ামের শহিদ হওয়ার শোক কাটাতে না কাটাতে নতুন বিড়ম্বনায় পড়ে দিনমজুর পরিবারটি। গত ২১ জুলাই বগুড়া সদর থানায় সিয়াম নিহতের ঘটনায় মামলা হয়। এজাহারে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের ছোঁড়া ককটেল বিস্ফোরণে আহত হয়ে সিয়াম শুভ নিহত হয়েছে।

শুধু তাই নয়, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দলীয় লোকজন সিয়াম ও তার পালক বাবা-মায়ের নামে মাদক ব্যবসায়ীর তকমা লাগিয়ে দেয়। এটা নিয়ে শাপলা ও তার স্বামী আশিককে অনেকভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়।

গত ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। সিয়ামের নিহতের ঘটনায় করা সাজানো মামলাটি খারিজ হয়। এরপর শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে শাপলা খাতুন বাদি হয়ে মামলা করেছেন।

শাপলা খাতুন জানান, আমি এখন সারাদিন বিছানায় পড়ে থাকি। সিয়াম ও তার বাবা সংসারের সব খরচ দেখত। এখন সিয়াম নাই। ওর বাপেরও কাজ নাই। ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার খরচের চাপ। কোন দিকে যাবো কিছু জানি না। এখন পর্যন্ত তেমন সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে কেউ আসেনি। স্থানীয়ভাবেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

সিয়ামের মা আরও জানান, চার নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে অনেক দিন ধরে প্রতিবন্ধী কার্ড করে নেয়ার জন্য ঘুরতেছি। দুজন কাউন্সিলর চলে গেল। আমার কার্ড হলো না। সিয়ামের বাপের একটা কাজ হলে তাও সংসার চালানো যায়। সিয়াম খালি বলত, আম্মু আমি থাকতে তোমার কোনো কষ্ট নাই। এখন সিয়াম নাই। আমাদের কে দেখবে?-বাসস।

আরটিভি/এসএপি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নরসিংদীতে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীর রায়পুরায় এক নবজাতক কন্যা শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের মরা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীনগর ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে থাকা একটি মরা নদীর পাড়ে খেলতে যায় কয়েকজন শিশু। সেখানে ব্যাগে থাকা ওই নবজাতককে দেখতে পায় একজন। পরে খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের ধারণা গত রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই নবজাতককে কাদাপানিতে ফেলে রেখে গেছে।  এ বিষয়ে রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান বলেন, স্থানীয় লোকজন ও চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে দেখতে পাই শরীরে কাদাপানি লাগানো একদিন বয়সী একটি মেয়ে বাচ্চার মরদেহ। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়। আরটিভি/এফএ/এআর
নরসিংদীতে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
পুকুরে ডুবে ২ বোনের মৃত্যু
কুমিল্লার চান্দিনায় পুকুরে ডুবে সামিয়া আক্তার (৩) ও হামিদা আক্তার (২) নামে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) উপজেলার মাইজখার পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা মাইজখার গ্রামের সুজন মিয়ার মেয়ে। দুই শিশুর চাচা খোকন মিয়া জানান, মঙ্গলবার সকালের পরিবারের সদস্যদের অগোচরে খেলতে গিয়ে সামিয়া ও হামিদা বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। দীর্ঘসময় ধরে স্বজনরা তাদের না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় দেখে তাদের উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাদের চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। বিস্তারিত পরে জানাতে পারব। আরটিভি/এফএ/এআর
পুকুরে ডুবে ২ বোনের মৃত্যু
টেকনাফে অপহৃত ১৮ বনকর্মী উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফে অপহৃত ১৮ বনকর্মীকে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে তাদের উদ্ধার করে র‍্যাব। উদ্ধার হাওয়া বনকর্মীরা হলেন- ফরেস্টার সাইফুল ইসলাম (২২), সৈয়দ (৫০), রফিক, আইয়ুব খান (১৮), আইয়ুব আলী (৫০), আনসার উল্ল্যাহ (১৮), আয়াত উল্লাহ (২২), সামছু (৪৫), ইসলাম (২১), সামছু (৪০), ইসমাইল (৩৫), মোহাম্মদ হাসিম (৪০), নূর মোহাম্মদ (২১), সৈয়দ আমিন (৩০), সফি উল্লাহ (৩০), আইয়ুব (৫০), মাহাতা আমিন (১৮)। আরও দুজনের নাম পাওয়া যায়নি। এদের মধ্যে অনেকে রোহিঙ্গা আছেন বলে জানা গেছে।  র‌্যাব-১৫–এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান ও টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, সোমবার সকাল ১০টার দিকে জাদিমোরা পাহাড়ে বনে বন বিভাগের হয়ে গাছের চারা রোপণের কাজ করার সময় অস্ত্রের মুখে শ্রমিকদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের শিকার শ্রমিকদের পরিবারের কাছে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরে তাদের উদ্ধারে মঙ্গলবার সকাল থেকে হ্নীলার জাদিমোরা পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরে মঙ্গলবার বিকেলে টেকনাফ গহীন পাহাড় থেকে ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়। অভিযান এখনো চলমান। এর আগে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) টেকনাফের জাদিমুড়া এলাকায় পাহাড়ি এলাকা থেকে ১৯ বনকর্মীকে অপহরণ করে অস্ত্রধারীরা। অপহরণের পর থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের পরিবারের কাছে ফোন করে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মোট ১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। আরটিভি/এফএ/এআর
টেকনাফে অপহৃত ১৮ বনকর্মী উদ্ধার
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদে প্রেরণ এবং প্রধান উপদেষ্টার অনুমতিক্রমে গেজেট প্রকাশ করা হবে। বেতন কাঠামো হবে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী। এতে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বাসা এবং উৎসব ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ব্যবসা করার জন্য বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। রোগে আক্রান্ত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে, যা ফেরত দিতে হবে না। তিনি আরও বলেন, গ্রুপিং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের মধ্যেও আছে। কখনো শুনেছেন তারা মারামারি করেছে। আমরা মুসলমানরা একদল আরেক দলকে পিটিয়ে মেরে ফেলি। আপনারা (ইমাম-মুয়াজ্জিনরা) যখন মিথ্যা বিবৃতি দেন তখন আমাদের মন ভেঙে যায়। এতে আমাদের ভাবমূর্তি বিদেশে বিনষ্ট হচ্ছে। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সরকার দেশ সংস্কারের কাজ করছে। সংস্কার শেষ হলে নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবে তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করব এবং আমরা বিদায় নেব। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য। প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান। অধিকার সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আরটিভি/এফএ
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলচালকও। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  নিহত যুবকের নাম শাহিনুল ইসলাম শোয়াইব (২৪)। তিনি উত্তর আধুনগর বেপারি পাড়ার নাজিম উদ্দীনের পুত্র। শোয়াইব চট্টগ্রাম মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শোয়াইবের বন্ধু মোটরসাইকেলচালক সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গারাংগিয়া আলোরঘাট এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের পুত্র মোহাম্মদ তারেক (২৪)। তিনি উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।  স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অভিমুখী মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গেলে মোটরসাইকেলচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে রাস্তার বাইরে পড়ে যান। মোটরসাইকেলের পিছনে থাকা আরোহী শোয়াইব কক্সবাজার অভিমুখী ট্রাকের পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, সিএনজি অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ট্রাকটি দোহাজারী হাইওয়ে থানার হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। আরটিভি/এফএ
ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
আরও পড়ুন
পুলিশের ৮ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি
‘জনগণের পুলিশ হতে যা করা দরকার তা করা হবে’
চার জেলায় নতুন পুলিশ সুপার
নোয়াখালীতে কৃষককে টার্গেট করে প্রকাশ্যে গুলি