
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে উত্তরাঞ্চলের ১১ জেলার বাস চলাচল আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
ধর্মঘটের কারণে, ভোর থেকে বগুড়া থেকে কোনো বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। এছাড়াও ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের দিকে ছেড়ে যাওয়া সব বাস আটকে দেয়া হয়েছে বগুড়ায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বাস না চলায় ছুটিতে থাকা অনেক চাকরিজীবী কর্মস্থলে যোগ দিতে আসতে পারছেন না ঢাকায়।
এছাড়া হঠাৎ করে ডাকা এই ধর্মঘটে অগ্রিম টিকিট কেটে রাখা যাত্রীরাও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।
বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে বগুড়ার ওপর দিয়ে বাস চলাচল বন্ধের এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
এ কারণে আন্দোলনরত শ্রমিকরা উত্তরের ১১ জেলা থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী বাসগুলো বগুড়ার শেরপুর, শাজাহানপুর, বনানী, তিনমাথা, চারমাথা ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় থামিয়ে দিচ্ছেন। এতে গন্তব্যের মাঝপথে আটকে গেছেন হাজারো যাত্রী।
বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে আজ বুধবার সকাল থেকে ঢাকার সঙ্গে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ১১ জেলার ঢাকামুখী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ গতকাল মঙ্গলবার রাতে জরুরি সভা করে বুধবার সকাল থেকে বগুড়া, নওগাঁ ও জয়পুরহাটসহ রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল বন্ধের এই ঘোষণা দেয়।
বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মোহন আরটিভি অনলাইনকে জানান, নওগাঁ শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের বিরোধের সূত্র ধরে গত কয়েকদিন ধরে বগুড়ার মালিকদের বাস ঢাকার মহাখালী ও গাবতলীতে আটকে রেখেছে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা। গেলো সোমবার নওগাঁ ও বগুড়ার বিরোধ মিটে যাবার পরও ঢাকায় বগুড়ার বাস মালিকদের ৩৫টি বাস আটক করে মহাখালী এবং গাবতলীতে কাউন্টারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।
বগুড়া থেকে ঢাকার মহাখালীতে চলাচলকারী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস বন্ধের দাবিতে তারা এটি করেছে।
প্রতিবাদে গেলো সোমবার বগুড়া থেকে ঢাকায় বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোনো সমঝোতা না হওয়ায় এবং আটক ৩৫টি গাড়ি ঢাকা থেকে ছেড়ে না দেয়ায় বুধবার সকাল থেকে এই অঞ্চলের সব জেলায় ঢাকামুখী কোনো বাস চলাচল করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন মালিক শ্রমিক যৌথ পরিষদ।
আরও পড়ুন:
এসএইচ/এসএস



