ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মৃত্যুর প্রহর গুনছেন অসহায় কৃষক খলিল

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ছবি: আরটিভি

কৈশোর জীবন থেকেই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন ৪৫ বছর বয়সী মো. খলিল। মাঠে কঠোর পরিশ্রম করে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে চলছিল তার ছোট্ট সংসার। কিন্তু হঠাৎ ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তিনি। দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে চিকিৎসা চললেও অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসাও এখন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।

খলিল ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে চর ফকিরা গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল শেখের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমদিকে খলিল জ্বরে আক্রান্ত হন। স্থানীয় চিকিৎসকেরা টাইফয়েড শনাক্ত করে চিকিৎসা দিলেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং দিন যত গড়িয়েছে, তার শরীরের রক্তের পরিমাণ কমতে শুরু করে এবং শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত।

আরও পড়ুন

রোগ নির্ণয়ের পর রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মো. খলিল। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে জমিজমা, সঞ্চয় ও পরিবারের যা কিছু ছিল, প্রায় সবই বিক্রি করতে হয়েছে। ইতোমধ্যে তার চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে এখন সেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

খলিলের স্ত্রী সুখী বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আমার স্বামীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়া প্রয়োজন। তবে সেখানে চিকিৎসা করাতে প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থ, যা আমাদের পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব না। সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।

খলিলের প্রতিবেশী ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, তার সংসারে রয়েছে স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান। এর মধ্যে একটি সন্তান প্রতিবন্ধী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই খলিল। আজ সে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। তাই শুধু একজন মানুষের জীবন নয়, অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পুরো একটি পরিবার।সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিরা মানবিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসলে খলিলের চিকিৎসা চালানো সম্ভব।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন বলেন, ক্যানসারে আক্রান্ত খলিলের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতা করা হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ট্রেনে ছিনতাই চক্রের ২ নারী সদস্য আটক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার সময় কৃত্রিম জটলা সৃষ্টি করে এক যাত্রীর গলার সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় সংঘবদ্ধ নারী ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হবিগঞ্জ সদর থানার উছাইল (চারিনাও) গ্রামের দুলাল মিয়ার স্ত্রী মোছা. শাহেনা আক্তার শাহানা (৩৪) এবং আদিস মিয়ার স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩৯)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম জানান, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় ওই দুই নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলায় হয়।  মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৪ জুন বেলা ১১টার দিকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রায়হান ভূঁইয়া (৩৪) তার বোন শান্তা আক্তারকে (৩২) সঙ্গে নিয়ে পারিবারিক কাজে আজমপুর স্টেশন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার জন্য আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘চ’ বগিতে ওঠেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তারা ট্রেন থেকে নামার সময় সংঘবদ্ধ চক্রের কয়েকজন নারী কৃত্রিম জটলা সৃষ্টি করেন। এ সময় মোছা. সেলিনা আক্তার (৩৪) সহ তার সহযোগী শাহেনা, রেজিয়া, খুদেজা, গ্রেপ্তারকৃত শাহেনা আক্তার শাহানা ও নাসিমা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন মিলে শান্তা আক্তারকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে কৌশলে শান্তা আক্তারের পিঠের পেছন দিয়ে ওড়নার নিচে হাত ঢুকিয়ে তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের সোনার চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, টেনে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে শান্তা আক্তার তাৎক্ষণিক চেইনটি হাত দিয়ে ধরে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে ভাই রায়হান ভূঁইয়া ও ট্রেনে থাকা অন্যান্য যাত্রীরা এগিয়ে এসে সেলিনা আক্তারকে আটক করেন। এ সময় অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে সেলিনাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পলাতক সহযোগীদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন বলে পুলিশ জানায়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে শাহেনা আক্তার শাহানা ও নাসিমা বেগমের ওই ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে মঙ্গলবার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শাহ আলম বলেন, আটক দুই আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এটি একটি সংঘবদ্ধ নারী ছিনতাইকারী চক্র। তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আরটিভি/এসএস
ট্রেনে ছিনতাই চক্রের ২ নারী সদস্য আটক
সড়কের পাশে পড়েছিল স্কুলছাত্রী, পরে জানা গেল ‘আসল ঘটনা’
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৪) পাঁচ দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই শিক্ষার্থীর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজু আহমেদ (২২) ও জুবেল মিয়া (৩০)। এ মামলার আরেক আসামি কবির (৩০) পলাতক। এজাহারের বরাতে মামলার আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) রুহুল আমীন বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত জাহেদ। পরে তাকে আসামি জুবেলের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন আসামিরা। পরবর্তীতে ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাহেদের বাড়িতে আটকে রেখে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কিশোরীকে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যান আসামিরা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার কলিমাবাদ, গিয়াস নগর ও রাজনগরের গাঙপার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পলাতক আসামি কবিরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। আরটিভি/এসএস
সড়কের পাশে পড়েছিল স্কুলছাত্রী, পরে জানা গেল ‘আসল ঘটনা’
নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের এ কী হাল
নাটোরকে বলা হয় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। আর নাটোর জেলা শহর থেকে উত্তরবঙ্গে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের নাটোর অংশে একাধিক স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়কের বেশ কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।  জেলার সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় গেলে সড়কের এমন বেহাল অবস্থা চোখে পড়ে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, রাজশাহী, নওগাঁসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে। সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকার প্রায় ১৫টি স্থানে সড়কের কিনারায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কের পোল উল্টে পড়ে আছে। এই অবস্থায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানায়, ২০২১-২২ অর্থ বছরে নাটোর থেকে বগুড়া মহাসড়কের প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এরই অংশ হিসেবে সিংড়া উপজেলার শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তা ফোরলেনের কাজ এ বছরই শেষ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তবে নিংগইন ও হাইটেক পার্ক এলাকায় এখনো ২টি ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। কয়েকটি প্যাকেজে সাজানো হয়েছে কাজগুলো। রাস্তার দু’ধারে মাটি ফেলা, সড়ক প্রশস্ত, ব্রিজ নির্মাণ এসব প্যাকেজে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়সারা কাজ ও অনিয়মের কারণে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই চৌগ্রাম এলাকার কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশে ধস দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পিচের স্তর ভেঙে মাটি ও পাথর সরে গেছে। দ্রুত এ বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি সড়কের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম জানান, নাটোরে দায়িত্ব পেয়েছি অল্প কিছুদিন হলো। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আরটিভি/এসএস
নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের এ কী হাল
অতিষ্ঠ হয়ে ছেলেকে জেলে পাঠালেন বাবা
নওগাঁর পোরশায় মাদক সেবন ও নিয়মিত পরিবারের ওপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগে কাওছার হাবিব (২৫) নামে এক যুবককে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত সন্তানের অমানবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শেষমেষ তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন তার নিজ বাবা।
অতিষ্ঠ হয়ে ছেলেকে জেলে পাঠালেন বাবা
ঝিনাইদহে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 
ঝিনাইদহে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা