
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে ছুটি না অনুমতি ছাড়াই একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে। মালয়েশিয়া, চীন, নেপাল ও মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের কারণে দীর্ঘ সময় এলাকায় অনুপস্থিত থাকায় নাগরিক সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাচ্ছে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম সবুজ বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়া, চীন, নেপাল ও মালদ্বীপসহ একাধিক দেশে ভ্রমণ করেছেন। তবে এসব বিদেশ সফরের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি বা লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এলাকায় অনুপস্থিত থাকলে স্বাভাবিকভাবেই তার দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত ঘটে। বিশেষ করে নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র সহ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবায় ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর বা সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তাকে পাওয়া যায় না। এতে ওই ওয়ার্ডের সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
মো. সজীব মিয়া নামে একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জরুরি একটা কাজের জন্য ইউপি সদস্যের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন দেওয়ার পর বন্ধ পাই, পরে ওনার বাড়িতে গিয়ে শুনি তিনি বিদেশে ভ্রমণে গেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী বলেন, প্রয়োজনের সময় ইউপি সদস্যকে এলাকায় পাওয়া যায় না। বিভিন্ন কাজে তার স্বাক্ষর বা সহযোগিতা প্রয়োজন হলে সমস্যায় পড়তে হয়। সময়মতো তাকে খুঁজে না পাওয়ায় অনেকেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, আমি দেশ-বিদেশে ভ্রমণে থাকাকালে কোনো নাগরিক আমাকে ভোগান্তির কথা জানাননি। একাধিকবার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছি। তবে বিদেশ যেতে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, সেটা আমি জানতাম না।
মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিন্টু কুমার আচার্য বলেন, ইউপি সদস্য একাধিকবার বিভিন্ন সময় দেশে-বিদেশে ভ্রমণ করেছেন। তিনি কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না। প্রায়ই বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে চলে যান। এতে নাগরিকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী দীপক বলেন, রফিকুল ইসলাম সবুজ একাধিকবার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অনুমতি নেননি। তবে অনেক নাগরিক এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানানো হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বিদেশ ভ্রমণে গেলে সাধারণত লিখিত অনুমতি নিতে হয়, এটাই বিধান। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়াও সরকার পতনের পর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে প্রায় এক বছর আত্মগোপনে থাকলেও ইউপি সদস্য হিসেবে নিয়মিত সম্মানী নিয়েছেন রফিকুল ইসলাম সবুজ। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন। তাছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রফিকুল ইসলাম সবুজের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের ছবি ও লাইভ সম্প্রচার করতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব পোস্টের পর তার বিদেশ ভ্রমণের বৈধতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের কেউ কেউ বলছেন, একজন ইউপি সদস্যের নিয়মিত আয় ও সম্মানীর তুলনায় একাধিক বিদেশ ভ্রমণের ব্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, ইউপি সদস্যের বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি, দায়িত্বে অনুপস্থিতি, সম্মানী গ্রহণ এবং বিদেশ সফরের অর্থের উৎস সব বিষয়ই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরটিভি/এমএইচজে



