
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ গ্রহণ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করেছেন হাসিব নামে এক অভিযোগকারী।
দুদকে দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান সহকারী পদে দায়িত্ব পালন করলেও মো. জাহাঙ্গীর আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের দায়িত্বও নিয়ন্ত্রণ করছেন। হিসাবরক্ষকের হিসাব-সংক্রান্ত বই নিজের কাছে রেখে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হাসপাতালের এক স্বাস্থ্য সহকারীর কাছ থেকে জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থ নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত কাজ না করে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চতর পদে পদোন্নতি, সার্ভিস বইয়ের পাতা ছিঁড়ে ফেলা ও অন্যান্য বিষয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং পুরোনো আসবাবপত্র বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মচারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য টাকা নেওয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনে এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পেনশনের টাকা পেতে প্রথমে তার কাছে ৪ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ২ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য সহকারীদের দুর্গম টিকা কেন্দ্রের ভাতা, ফ্রি মোবাইল মেডিকেল ক্যাম্প, ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন ও জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে। নার্সিং কর্মকর্তাদের বেতন বিল, সিলেকশন গ্রেডের বকেয়া বিল, জিপিএফ, শ্রান্তি-বিনোদন ভাতাসহ অফিসের বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত সরকারি আউটডোর টিকিটের মূল্য ৩ টাকা থাকলেও সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৫ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে মো. জাহাঙ্গীর আলমের ভাই হাফিজ একই হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চাকরি করায় পারস্পরিক যোগসাজশে রোগী ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট, মৃত্যুসনদসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
চরফ্যাশন হাসপাতালের প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে দুদকে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সেটির বিষয়ে আপনি খোঁজ করে দেখুন। আমার সম্মান নষ্ট করার জন্য দরখাস্তে উল্টাপাল্টা লিখেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন বরিশালের সহকারী পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান বলেন, আমরা কমিশনের অনুসন্ধানের অনুমতি চাইব। অনুমতি পেলেই আমরা তদন্ত শুরু করব।
আরটিভি/টিআর


