
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় শিল্পী বেগম নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তবে অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া নবজাতকটি জীবিত রয়েছে। এ ঘটনায় বারবাজারের গরীব শাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে সেটি সিলগালা ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সাতগাছিয়া গ্রামের ইয়ার আলীর স্ত্রী শিল্পী বেগমকে সন্তান প্রসবের জন্য বারবাজারের গরীব শাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময়ই শিল্পী বেগমের মৃত্যু হয়। তবে তার গর্ভের সন্তানটি জীবিত অবস্থায় জন্ম নেয়।
ঘটনার পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গরীব শাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা নাহিদ। অভিযানে চিকিৎসা অনুশীলন এবং ব্যক্তিগত ক্লিনিক ও পরীক্ষাগার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ অনুযায়ী ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযান শেষে নিহত শিল্পী বেগমের শ্বশুর বাড়ি সাতগাছিয়া গ্রামে যান ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ। সেখানে সদ্য জন্ম নেওয়া মা-হারা শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করেন তিনি। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ সময় তিনি অসহায় পরিবারটির হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা ও উপহারসামগ্রীও প্রদান করেন।
প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সদ্য মাকে হারানো নবজাতক ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত একটি পরিবারের পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, শিশুটির খোঁজখবর নিতে তাদের পরিবারের কাছে গিয়েছিলাম।
আরটিভি/আইএম



