ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কালীগঞ্জের ইউএনও

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
ইউএনওর কোলে সদ্য জন্ম নেওয়া মা-হারা শিশু। ছবি: আরটিভি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় শিল্পী বেগম নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তবে অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া নবজাতকটি জীবিত রয়েছে। এ ঘটনায় বারবাজারের গরীব শাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে সেটি সিলগালা ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সাতগাছিয়া গ্রামের ইয়ার আলীর স্ত্রী শিল্পী বেগমকে সন্তান প্রসবের জন্য বারবাজারের গরীব শাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময়ই শিল্পী বেগমের মৃত্যু হয়। তবে তার গর্ভের সন্তানটি জীবিত অবস্থায় জন্ম নেয়।

ঘটনার পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গরীব শাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা নাহিদ। অভিযানে চিকিৎসা অনুশীলন এবং ব্যক্তিগত ক্লিনিক ও পরীক্ষাগার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ অনুযায়ী ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযান শেষে নিহত শিল্পী বেগমের শ্বশুর বাড়ি সাতগাছিয়া গ্রামে যান ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ। সেখানে সদ্য জন্ম নেওয়া মা-হারা শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করেন তিনি। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এ সময় তিনি অসহায় পরিবারটির হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা ও উপহারসামগ্রীও প্রদান করেন।

প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সদ্য মাকে হারানো নবজাতক ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত একটি পরিবারের পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, শিশুটির খোঁজখবর নিতে তাদের পরিবারের কাছে গিয়েছিলাম।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি দল: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—যারা এই স্লোগানে বিশ্বাস করে না, যারা এই নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে।  তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায়, কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে এই হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে—যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে, যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে, জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন হওয়ার। আমি আপনাদেরকে আহ্বান জানাব, আজকে থেকে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। যাতে করে বাংলাদেশের অর্থনীতি, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের যে পরিবর্তন, সেটি পরিবর্তন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে, এটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। তিনি বলেন, সোমবার একটি অনুষ্ঠান ছিল ঢাকায়। অনুষ্ঠানটি ছিল ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল, শত শত ছাত্রকে, শত শত সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে দিয়ে গিয়েছিল। সেই সকল শহীদের স্মরণে আমরা সোমবার ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। ২৪-এ যে শহীদ পরিবার আছে, জুলাই যোদ্ধা যারা আছে, তাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। যে সকল জুলাই যোদ্ধা আহত হয়েছেন, তাদেরকে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। তারেক রহমান বলেন, আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে সেদিন দাওয়াত দিয়েছিলাম, যারা মুখে বলে ২৪-কে তারা ধারণ করে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? এমনকি জুলাই শহীদদেরকে সম্মান জানানোর জন্য, তাদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করার জন্য, তাদেরকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই সকল দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। অর্থাৎ ৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, ২৪-এর জুলাই আন্দোলনকেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি কথা বলছে, তাদের কর্মে আরেকটি প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন চায় একটি স্থিতিশীলতা, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। বাংলাদেশের জনগণ চায় শান্তিতে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সোজা কথায় যদি বলি, বাংলাদেশের জনগণ একদিকে যেমন চায় গণতান্ত্রিক চর্চা করতে, একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ চায় কর্মসংস্থানসহ শান্তিতে তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারে। অর্থনৈতিক অধিকার যেমন বাংলাদেশের মানুষ চায়, রাজনৈতিক অধিকারও একই সঙ্গে মানুষ চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যেভাবে ১২ তারিখের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের জনগণকে তাহলে বিএনপির প্রতি সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। যাতে সেই সকল ভ্রান্ত রাজনৈতিক দল, যারা ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই জনগণকে ভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, যখনই তারা সুযোগ পেয়েছে, তখনই দেশকে তারা ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চেয়েছে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে, কৃষক ভাইদের অগ্রগতির স্বার্থে, মানুষের অগ্রগতির স্বার্থে এই যে রাজশাহীতে যে পদ্মা নদী আছে, আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের এই পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কীভাবে এই পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে বাংলাদেশের দুটি বড় নদী আমাদের, একটি হচ্ছে তিস্তার ওখানে, উত্তরে; আরেকটি হচ্ছে রাজশাহীতে পদ্মা নদী। এই দুটি নদীতে আমরা ব্যারাজ তৈরি করব, যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা আমরা দূর করতে পারি। তিনি আরও বলেন, এই পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয়, আমরা চেষ্টা করব। ততদূর যেতে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব। আরটিভি/এমএম
দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি দল: প্রধানমন্ত্রী
স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি, অতঃপর...
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার তালুকদার (৩৯) নামে এক স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে ভেদরগঞ্জ থানা-সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আবুল বাশার গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার দেউলিয়াবাড়ি এলাকার মৃত জনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরের খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আবুল বাশারের পূর্বপুরুষদের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকায়। সেখানে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত রোববার সকালে বাড়ি থেকে রওনা হন তিনি। ওই দিন রাত ৮টা ৪০ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তখন তিনি নাঈম নামে এক বন্ধুর বাসায় রাতের খাবার খাচ্ছেন এবং সেখানেই থাকবেন বলে জানান। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সোমবার সকাল থেকে স্ত্রী একাধিকবার ফোন করেও তার কোনো সাড়া পাননি। পরে দুপুর ৩টার দিকে আবুল বাশারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে জানান, তিনি আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য দুই হাজার টাকা প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা টাকা পাঠানোর নম্বর চাইলে তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর আবুল বাশারের রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় বিষয়টি জানান। পরে তার মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আশপাশে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা শরীয়তপুরে এসে ভেদরগঞ্জ থানা-পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার ছোট ভাই বেড়াতে আসার জন্য শরীয়তপুরে যাওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর কয়েক দফায় তার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি থানায় জানানোর পর মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ জানায়, সে ভেদরগঞ্জে রয়েছে। পরে আমরা এসে পুলিশের সহযোগিতায় একটি আবাসিক হোটেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। নিহতের ভাগনে মো. কবির হোসেন খান বলেন, তার মামাকে অপহরণ করে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আরটিভি/টিআর
স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি, অতঃপর...
ইউনিয়ন নির্বাচনে দলের কেউ মুনাফিকি করলে ক্ষমা করবেন না প্রধানমন্ত্রী: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পেছনে কাজ করতে হবে, এই পথে কেউ অন্তরায় হয়ে থাকলে সে দল থেকে ছিটকে পড়বে।
ইউনিয়ন নির্বাচনে দলের কেউ মুনাফিকি করলে ক্ষমা করবেন না প্রধানমন্ত্রী: আইনমন্ত্রী
পণ্য খালাসে বাধা, ২০ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগ
ঢাকার ধামরাইয়ে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় পণ্য লোড-আনলোড (বোঝাই ও খালাস) কার্যক্রমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা ও বকশিশ আদায় করতে না পারায় শ্রমিকদের একটি অংশকে উসকানি দিয়ে এ অচলাবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় দুই নেতার প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান। এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ বিষয়ে ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানার পণ্য লোড-আনলোডের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এম. এম. এন্টারপ্রাইজ’-এর কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পণ্যবাহী ট্রাকের চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বকশিশ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালকদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি কারখানা কর্তৃপক্ষ অননুমোদিতভাবে টাকা আদায়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর জেরে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা প্রথমে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে কাজে ফিরলেও এক-তৃতীয়াংশ লোকবল নিয়ে ধীরগতিতে কাজ শুরু করেন। এতে কারখানার স্বাভাবিক পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং প্রায় ২০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ নতুন ভেন্ডর (ঠিকাদার) নিয়োগ দিলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের কাজ বন্ধ করতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এর জেরে সোমবার বিকেলে ওই ভেন্ডরের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নেমে আসেন। এ সময় তারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে, কাজ চালু রাখার জন্য নতুন ভেন্ডরের কয়েকজন শ্রমিক কাজ করতে গেলে সোমবার দুপুরে তাদের কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এ বিষয়েও নতুন ভেন্ডর কর্তৃপক্ষ ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কাদের নামের এক শ্রমিক সর্দারকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ ঘটনার নেপথ্যে থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছেন মেসার্স এম. এম. এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোজাম্মেল হক ও স্থানীয় কুশুন্দিয়া এলাকার ইউপি সদস্য মো. ঈমান আলী। এই ব্যক্তিরা নতুন ভেন্ডরকে সরিয়ে দিয়ে পুনরায় নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের ওপর নানামুখী চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. মামুনে বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নতুন ভেন্ডরের কর্মীদের কারখানা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন এবং নিজের লোকজন দিয়ে কাজ চালু রাখার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন ভেন্ডরকে বাদ দেওয়ার শর্তেই কেবল তাদের শ্রমিকেরা পুরোদমে কাজ করতে রাজি আছেন। সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানা প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি, শ্রমিক বা চালকদের ওপর শারীরিক নিগ্রহের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার পরিপন্থী। একটি সুনির্দিষ্ট চক্রের অযৌক্তিক কর্মবিরতি ও ধীরগতির কারণে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। আমরা কারখানার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কর্মরত প্রত্যেকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছি। একই সঙ্গে উৎপাদন সচল রাখতে আইনানুগ পন্থায় বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কর্তৃপক্ষের একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। একটি স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
পণ্য খালাসে বাধা, ২০ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগ
দুর্গন্ধ পেয়ে ঘরের ছিদ্র দিয়ে উঁকি দিতেই এলাকাবাসীর ‘চোখ কপালে’
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ভাড়া বাসার একটি কক্ষ থেকে রাসেল আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ডাইনকিনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাসেল ওই এলাকার ফরহাদ হোসেনের বাসায় ভাড়া থাকতেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ওই কক্ষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তির নাকে দুর্গন্ধ আসে। পরে সন্দেহ হলে তিনি আশপাশের লোকজনকে নিয়ে ঘরের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে তাকান। এ সময় তারা মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঝুলন্ত অবস্থায় রাসেলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত রাসেল আহমেদের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলায়। আরটিভি/টিআর
দুর্গন্ধ পেয়ে ঘরের ছিদ্র দিয়ে উঁকি দিতেই এলাকাবাসীর ‘চোখ কপালে’
আরও পড়ুন
চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে গিয়েই প্রতিবেশীদের ‘চোখ কপালে’
সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: আইনমন্ত্রী
সিঁড়ি বাইতে হিমশিম ৮০ বছরের বৃদ্ধা, চেয়ার ছেড়ে নিচে নামলেন ইউএনও
স্বামীর ‘বদলে যাওয়া’ সইতে না পেরে ‘চরম সিদ্ধান্ত’ নিলেন গৃহবধূ