ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ছাত্রের পায়জামা খোলা নিয়ে মাদরাসায় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
গ্রেপ্তার মাদ্রাসারা এক শিক্ষক এবং এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের চিহ্ন। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার পশ্চিম ঝাঝড় (সাক্রাউরী) এলাকায় দুই মাদরাসাছাত্রকে মারধরের পর গরম লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের করা পৃথক মামলায় মাদরাসার পরিচালকসহ তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার চরমুহুরী গ্রামের মাওলানা রইছ উদ্দিন আহাম্মদের ছেলে মাওলানা শোয়াইব হোসেন (২৬), ত্রিশাল থানার বরমা গ্রামের ওয়াদুদের ছেলে মাদরাসার শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান (২৬) এবং শেরপুরের শ্রীবরদী থানার ভাইডাঙ্গা গ্রামের শাহিন (১৯)।

শোয়াইব হোসেন আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুরের পরিচালক ও শিক্ষক। হাবিবুর রহমান ও শাহিন ওই মাদরাসার শিক্ষক।

নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থী হলো কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার সিংপুর গ্রামের নাজমুল মিয়ার ছেলে মো. বায়েজীদ (১৩) এবং শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার বানিয়াপাড়া গ্রামের মো. লাল মিয়ার ছেলে বোরহান আলী (১৩)। তারা ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে মাদরাসার মাঠে খেলাধুলার সময় এক শিক্ষার্থীর পায়জামা অসাবধানতাবশত খুলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বায়েজীদকে মারধর করেন মাদরাসার পরিচালক শোয়াইব আহাম্মদ।

একপর্যায়ে তাকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর এবং গরম লোহার খুন্তি দিয়ে নিতম্বে ছ্যাঁকা দেওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে একই ঘটনায় বোরহান আলীকেও একটি কক্ষে আটকে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা লাল মিয়া।

অভিযোগ অনুযায়ী, শোয়াইব হোসেন গরম লোহার খুন্তি দিয়ে বোরহানের তলপেটে ছ্যাঁকা দেন। পরে হাবিবুর রহমান ও শাহিন তার উরু, নিতম্বসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে জখম করেন।

বায়েজীদের বাবা নাজমুল মিয়া জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ছেলে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পর তিনি দেখতে পান, বায়েজীদ স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও বসতে পারছে না। কারণ জানতে চাইলে ছেলে নিতম্বে ফোঁড়া হয়েছে বলে জানায়। পরে ওষুধ লাগাতে গিয়ে পোড়ার স্পষ্ট দাগ দেখতে পান তিনি।

বোরহানের বাবা জানান, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ছেলেকে দেখতে মাদরাসায় গেলে তাকে অন্য শাখায় পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, গুরুতর আহত অবস্থায় বোরহানকে শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেখানে গিয়ে তিনি ছেলেকে চিকিৎসাধীন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখতে পান বলেও জানান তিনি।

ওসি গোলাম রব্বানী জানান, বায়েজীদের পরিবারের মামলায় শোয়াইব হোসেনকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বোরহানের বাবার করা মামলায় শনিবার হাবিবুর রহমান ও শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের রোববার আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৭০ বছরের ঐতিহ্য বউমেলা, পুরুষের প্রবেশ নিষেধ!
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে প্রায় ৭০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বউমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলার বিশেষত্ব হলো, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে এখানে পুরুষদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। নারী ও শিশুরাই এ সময় মেলার ক্রেতা ও দর্শনার্থী। তবে দোকানিদের মধ্যে পুরুষ বিক্রেতারাও রয়েছেন।
৭০ বছরের ঐতিহ্য বউমেলা, পুরুষের প্রবেশ নিষেধ!
দেশ ছাড়ার কথা জানালেন সেই রুমি, বললেন- ‘আপনারা ভালো থাকেন’
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদরাসার ভেতরে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। তীব্র আলোচনা-সমালোচনার মুখে থাকা ভুক্তভোগী শিশুর বাবা শাহজালাল রুমি দাবি করেছেন, তিনি ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের পাঠানো এক খুদে বার্তায় তিনি এ কথা জানান। তবে তিনি কোন দেশে অবস্থান করছেন, তা স্পষ্ট করেননি। বার্তায় রুমি বলেন, আমি আর এই দেশে নেই। এসব নিয়ে যা হয় হোক, যে যা খুশি বলুক, করুক আমার কোনো মন্তব্য নেই। আপনারা সবাই ভালো থাকেন।   বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সাংবাদিক তার প্রকাশ করা ভিডিও থেকে কেটে সেটে বিভিন্নভাবে প্রচার করেছেন। এর ফলে অনেকেই নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। তবে তিনি আইনের কাছে সঠিক বিচার চেয়েছেন বলে জানান। রুমি বলেন, আমি এই দেশবাসীকে একটাই অনুরোধ করব, আপনাদের সঙ্গেও যদি এমন ঘটনা হয়, প্রতিবাদ অবশ্যই করবেন।  ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ অক্টোবর। টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদরাসার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী ওই শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা-পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় ও বিতর্ক শুরু হয়। ঘটনাটি এখানেই থেমে থাকেনি; শিক্ষক কারাগারে যাওয়ার পর মাদরাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে মাদরাসায় অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ছাড়াও ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাকে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মাদরাসা ভাঙচুর, টাকা লুট ও শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ওই অভিভাবকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।  পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা এই মামলা দায়েরের পর থেকেই জনসমক্ষ থেকে আড়ালে চলে যান শাহজালাল রুমি। বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ও আলোচনার মধ্যেই সোমবার রাতে খুদেবার্তা পাঠিয়ে তিনি দেশ ছাড়ার দাবি করেন। তবে তার বর্তমান অবস্থান কিংবা তিনি বৈধভাবে দেশত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আরটিভি/টিআর
দেশ ছাড়ার কথা জানালেন সেই রুমি, বললেন- ‘আপনারা ভালো থাকেন’
সাজেক সড়কে চলছে ৬ষ্ঠ দিনের অবরোধ, আলোচনাতেও হয়নি সমাধান
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সড়কে ৬ষ্ঠ দিনের মতো অবরোধ চলছে।
সাজেক সড়কে চলছে ৬ষ্ঠ দিনের অবরোধ, আলোচনাতেও হয়নি সমাধান
হাতিয়ায় ট্রলার ডুবে নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার
চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় কর্ণফুলি নদীতে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গিয়ে নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
হাতিয়ায় ট্রলার ডুবে নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার
শ্বশুরের মৃত্যুর পর কাঁদতে কাঁদতে মারা গেলেন পুত্রবধূ
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার একটি বাড়িতে সাড়ে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে শ্বশুর ও পুত্রবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ওই পরিবারের শোকের মাতম চলছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে শ্বশুর এবং রোববার সকালে মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া শ্বশুরের নাম মো. মফিজুর রহমান (৭০)। তিনি সুবর্ণচর উপজেলার চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় কৃষক ছিলেন তিনি। তার পুত্রবধূর নাম রাহিনা আক্তার (৩২)। তিনি মফিজুরের মেজ ছেলে মো. আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে শ্বশুর এবং রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুত্রবধূ মারা যান। বৃদ্ধ মফিজুর রহমান পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। রাহিনা আক্তার তার মেঝ ছেলে মো. আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. কামাল উদ্দিন বলেন, মফিজ মিয়া স্নেহশীল একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি পরিবারের সবাইকে আগলে রাখতেন। পুত্রবধূ রাহিনা আক্তারকে তিনি ও তার স্ত্রী আপন সন্তানের মতো ভালবাসতেন। শ্বশুর ও শাশুড়িকে নিজের বাবা-মায়ের মতোই ভালোবাসতেন রাহিনা। কামাল উদ্দিন বলেন, শনিবার রাত ১১টার দিকে মফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই পুত্রবধূ। আহাজারি করতে করতে গতকাল ভোরের দিকে জ্ঞান হারান তিনি। এরপর পল্লিচিকিৎসক ডেকে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যেই গতকাল (রোববার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গৃহবধূও মারা যান। তিনি আরও জানান, রোববার সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় আজিজিয়া কচ্ছপ মার্কেট জামে মসজিদ মাঠে শ্বশুর মফিজুর রহমানের জানাজা এবং  সন্ধ্যার পর পুত্রবধূ রাহিনা আক্তারের  জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আরটিভি/টিআর
শ্বশুরের মৃত্যুর পর কাঁদতে কাঁদতে মারা গেলেন পুত্রবধূ
আরও পড়ুন
দেশ ছাড়ার কথা জানালেন সেই রুমি, বললেন- ‘আপনারা ভালো থাকেন’
বাবাকে হত্যার পর পালালেন মাদকাসক্ত ছেলে, মা আটক 
মাদকাসক্তি ছাড়াতে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েও শেষ রক্ষা হলো না বাবার
২ হাজার পিস ইয়াবাসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার