
মুন্সীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ফজরের নামাজ পড়ে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
গ্রেপ্তার সুমন সরকার (৪০) গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের বাছেদ সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রংমিস্ত্রি। তার স্ত্রী রিনা বেগম (৩২) টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের ইব্রাহিমের মেয়ে। ১৭ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়।
পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে সুমন বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর কাছে খাবার চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমন তার স্ত্রীর মোবাইল ভেঙে ফেলেন। পরে রাত ১০টার দিকে রিনা তার মেয়েকে নিয়ে একটি কক্ষে এবং সুমন পাশের কক্ষে ঘুমাতে যান। এরপর রাত ১টার দিকে স্ত্রীর কক্ষে ঢুকে তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় রিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর সুমন বাড়িতেই ছিলেন। পরে স্থানীয় মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সুমন কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা থানা এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। গজারিয়া থানা-পুলিশের একটি দল তার অবস্থান শনাক্ত করে নজরদারি চালাচ্ছিল। পরে ঢাকার দিকে রওনা হলে টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকা থেকে শনিবার ভোর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। এর আগে স্ত্রীকে একাধিকবার মারধরও করেছিলেন তিনি।
মেনহাজুল আলম বলেন, এ ঘটনায় রিনার ভাই সাফায়েত হোসেন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সুমন সরকারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সুমন সরকারকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/আইএম


