ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

স্ত্রীকে হত্যার পর ফজরের নামাজ পড়ে উধাও সুমন

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
গ্রেপ্তার সুমন সরকার। ছবি: আরটিভি

মুন্সীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ফজরের নামাজ পড়ে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।

গ্রেপ্তার সুমন সরকার (৪০) গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের বাছেদ সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রংমিস্ত্রি। তার স্ত্রী রিনা বেগম (৩২) টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের ইব্রাহিমের মেয়ে। ১৭ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়।

পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে সুমন বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর কাছে খাবার চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমন তার স্ত্রীর মোবাইল ভেঙে ফেলেন। পরে রাত ১০টার দিকে রিনা তার মেয়েকে নিয়ে একটি কক্ষে এবং সুমন পাশের কক্ষে ঘুমাতে যান। এরপর রাত ১টার দিকে স্ত্রীর কক্ষে ঢুকে তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় রিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর সুমন বাড়িতেই ছিলেন। পরে স্থানীয় মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সুমন কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা থানা এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। গজারিয়া থানা-পুলিশের একটি দল তার অবস্থান শনাক্ত করে নজরদারি চালাচ্ছিল। পরে ঢাকার দিকে রওনা হলে টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকা থেকে শনিবার ভোর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। এর আগে স্ত্রীকে একাধিকবার মারধরও করেছিলেন তিনি।

মেনহাজুল আলম বলেন, এ ঘটনায় রিনার ভাই সাফায়েত হোসেন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সুমন সরকারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সুমন সরকারকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দেশ ছাড়ার কথা জানালেন সেই রুমি, বললেন- ‘আপনারা ভালো থাকেন’
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। তীব্র আলোচনা-সমালোচনার মুখে থাকা ভুক্তভোগী শিশুর বাবা শাহজালাল রুমি দাবি করেছেন, তিনি ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের পাঠানো এক খুদে বার্তায় তিনি এ কথা জানান। তবে তিনি কোন দেশে অবস্থান করছেন, তা স্পষ্ট করেননি। বার্তায় রুমি বলেন, আমি আর এই দেশে নেই। এসব নিয়ে যা হয় হোক, যে যা খুশি বলুক, করুক আমার কোনো মন্তব্য নেই। আপনারা সবাই ভালো থাকেন।   বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সাংবাদিক তার প্রকাশ করা ভিডিও থেকে কেটে সেটে বিভিন্নভাবে প্রচার করেছেন। এর ফলে অনেকেই নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। তবে তিনি আইনের কাছে সঠিক বিচার চেয়েছেন বলে জানান। রুমি বলেন, আমি এই দেশবাসীকে একটাই অনুরোধ করব, আপনাদের সঙ্গেও যদি এমন ঘটনা হয়, প্রতিবাদ অবশ্যই করবেন।  এর আগে, গত শুক্রবার গাজীপুরের টঙ্গীর আওচপাড়া এলাকায় অবস্থিত ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় বহিরাগতদের নিয়ে প্রবেশ, শিক্ষককে মারধর, মাদরাসার অফিসকক্ষ ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে মামলা হয়। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমাস হোসেন বাদী হয়ে শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্যদিকে সাত বছর বয়সী ছাত্রীকে চুমু দেওয়া ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পরিবারের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক মুসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় গত রোববার গাজীপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিনের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন বিচারক।  ঘটনাটি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাকে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসা ভাঙচুর, টাকা লুট ও শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ওই অভিভাবকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।  আরটিভি/টিআর
দেশ ছাড়ার কথা জানালেন সেই রুমি, বললেন- ‘আপনারা ভালো থাকেন’
সাজেক সড়কে চলছে ৬ষ্ঠ দিনের অবরোধ, আলোচনাতেও হয়নি সমাধান
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সড়কে ৬ষ্ঠ দিনের মতো অবরোধ চলছে।
সাজেক সড়কে চলছে ৬ষ্ঠ দিনের অবরোধ, আলোচনাতেও হয়নি সমাধান
হাতিয়ায় ট্রলার ডুবে নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার
চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় কর্ণফুলি নদীতে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গিয়ে নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
হাতিয়ায় ট্রলার ডুবে নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার
শ্বশুরের মৃত্যুর পর কাঁদতে কাঁদতে মারা গেলেন পুত্রবধূ
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার একটি বাড়িতে সাড়ে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে শ্বশুর ও পুত্রবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ওই পরিবারের শোকের মাতম চলছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে শ্বশুর এবং রোববার সকালে মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া শ্বশুরের নাম মো. মফিজুর রহমান (৭০)। তিনি সুবর্ণচর উপজেলার চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় কৃষক ছিলেন তিনি। তার পুত্রবধূর নাম রাহিনা আক্তার (৩২)। তিনি মফিজুরের মেজ ছেলে মো. আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে শ্বশুর এবং রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুত্রবধূ মারা যান। বৃদ্ধ মফিজুর রহমান পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। রাহিনা আক্তার তার মেঝ ছেলে মো. আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. কামাল উদ্দিন বলেন, মফিজ মিয়া স্নেহশীল একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি পরিবারের সবাইকে আগলে রাখতেন। পুত্রবধূ রাহিনা আক্তারকে তিনি ও তার স্ত্রী আপন সন্তানের মতো ভালবাসতেন। শ্বশুর ও শাশুড়িকে নিজের বাবা-মায়ের মতোই ভালোবাসতেন রাহিনা। কামাল উদ্দিন বলেন, শনিবার রাত ১১টার দিকে মফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই পুত্রবধূ। আহাজারি করতে করতে গতকাল ভোরের দিকে জ্ঞান হারান তিনি। এরপর পল্লিচিকিৎসক ডেকে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যেই গতকাল (রোববার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গৃহবধূও মারা যান। তিনি আরও জানান, রোববার সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় আজিজিয়া কচ্ছপ মার্কেট জামে মসজিদ মাঠে শ্বশুর মফিজুর রহমানের জানাজা এবং  সন্ধ্যার পর পুত্রবধূ রাহিনা আক্তারের  জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আরটিভি/টিআর
শ্বশুরের মৃত্যুর পর কাঁদতে কাঁদতে মারা গেলেন পুত্রবধূ
ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে ফের সুযোগ পেলেন ছাত্রলীগ কর্মী
সিলেটে হবিগঞ্জের মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ছাত্রলীগ কর্মী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে বাদ পড়া চারজনের একজন শাহ আলম হৃদয়কে ফের শুমারির কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 
ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে ফের সুযোগ পেলেন ছাত্রলীগ কর্মী
আরও পড়ুন
পুলিশের ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় গ্রেপ্তার ৫৪৩
‘বাবা এসেছে’ ভেবে দরজা খুলে বড় বিপদে ১০ বছরের শিশু!
পদ্মায় গোসলে নেমে দুই যুবক নিখোঁজ
২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৬৬২ জন ধরা