
সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্সের টাকা আবারও গণনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট টাকা গণনার ৩৪ দিন পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মাজারের দানবাক্স (ডেগচি) থেকে টাকা তুলে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় গণনা করা হচ্ছে।
টাকা গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, মাজার কমিটির সদস্য ও জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরাও টাকা গণনায় অংশ নেন।
এর আগে গত ২২ জুন মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। সেদিন মাজারের চারটি এবং জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা চারটিসহ মোট আটটি দানবাক্স ডাবল লক অবস্থায় খোলা হয়। এসব দানবাক্স থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পাশাপাশি পাওয়া যায় ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার ও ২টি সৌদি রিয়াল।
পরে জেলা প্রশাসনের ফান্ড থেকে সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম আরও ৫ লাখ টাকার একটি চেক দেন। এতে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে এই অর্থ হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামে সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় জমা দেওয়া হয়।
এর ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ সময় ১৩৫ সৌদি রিয়াল, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপি, ৫৪ দশমিক ২ দিরহাম, ১ দিনার ৪৫০ পয়সা ওমানি মুদ্রা, ৪ হাজার ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া, ২০ মার্কিন ডলার, ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ১০ সিঙ্গাপুর ডলার, ২২ কাতারি রিয়াল, ৬ মালয়েশিয়ান রিংগিত ও ৬০ পাকিস্তানি রুপি পাওয়া যায়।
এ ছাড়া দানবাক্স থেকে ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম সোনাসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রূপাও উদ্ধার করা হয়।
সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়। সেদিন পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। একই সঙ্গে সোনা, রুপাসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়।
৩৪ দিন পর শনিবার আবারও দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হওয়ায় এবার কত অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়, তা গণনা শেষে জানা যাবে।
আরটিভি/এসকে


